মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চায় চীন

উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে চীন গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেইজিংয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। খবর সিনহুয়া।
লি ছিয়াং জানান, ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই চীন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে। একইসঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত চীনা নাগরিক, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে।
চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সবার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।’
এদিকে ইরানের উপকূল ও বন্দরগুলোতে যাতায়াত করা জাহাজের ওপর মার্কিন অবরোধ শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি, ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলছে।
মঙ্গলবার বেইজিংয়ে এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে আমেরিকার এই অবরোধ একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ। এটি ওই অঞ্চলের উত্তেজনাকে আরও উসকে দেবে।’
তিনি সতর্ক করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি এবং এই অবরোধ সেখানকার ‘ভঙ্গুর’ যুদ্ধবিরতিকে নস্যাৎ করে দিতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে গুয়ো বলেন, ‘ইরানে চীনের অস্ত্র পাঠানোর যে খবর চাউর হয়েছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট।’
আগের দিন কিছুটা নরম সুরে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হলেও মঙ্গলবারের বক্তব্যে বেইজিংয়ের অবস্থান ছিল অনেক বেশি কঠোর ও সরাসরি।
একই দিনে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করেন। সানচেজ পশ্চিমা বিশ্বের অন্যতম নেতা যিনি ইরান যুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করছেন। বৈঠকে শি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বর্তমানে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’
পরে আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদের সঙ্গে পৃথক এক বৈঠকে শি জিনপিং জানান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে চীন সবসময়ই গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বকে পুনরায় জঙ্গলরাজ্যে পরিণত হতে দিতে পারি না।’
অবরোধের মধ্যেও জাহাজ চলাচল অব্যাহত
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে মার্কিন অবরোধ কার্যকর হলেও সমুদ্রপথে গোয়েন্দা তথ্য প্রদানকারী সংস্থাগুলো ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। রয়টার্স ও ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা অন্তত দুটি জাহাজ সফলভাবে এই প্রণালি অতিক্রম করেছে।
কেপলারের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানানো হয়েছে, সাংহাই জুয়ানরুন শিপিং কোম্পানির মালিকানাধীন রিচ স্টারি নামক একটি ট্যাংকার ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল মিথানল নিয়ে কোনো বাধা ছাড়াই প্রণালিটি পার হয়েছে।
এ ছাড়া সোমবার ‘এলপিস’ নামে আরও একটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজ অবরোধ এড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এর আগে জাহাজ দুটির ওপর ইরানি তেল পরিবহনের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন অবরোধের মুখেও চীনা পতাকাবাহী বা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজের এই চলাচল ওই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।