সম্পত্তির মামলায় হেরে ৮২ বছরের বাবাকে হত্যা করেন ছেলে

আদালতে সম্পত্তির মামলায় হেরে ৮২ বছর বয়সি বৃদ্ধ বাবাকে হত্যা করেছে নিজের ছেলে। রাস্তায় চলন্ত অটোরিকশা থামিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় ওই বৃদ্ধকে।
শুক্রবার (১২ জুন) এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিহত বাবার নাম জাফর কামরুদ্দিন সাইয়েদ প্যাটেল এবং অভিযুক্ত ছেলের নাম আব্দুল রহমান আব্দুল জাফর। জমি বা বাড়ির মালিকানাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত জাফর প্যাটেল দেশটির পানিসম্পদ বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তার ছেলে আব্দুল রহমান পেশায় একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ (ওষুধ প্রতিনিধি)। দীর্ঘদিন ধরে বাবার সঙ্গে ছেলের সম্পত্তির বিরোধ চলছিল। আব্দুল রহমান নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করত এবং তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। ছেলের এমন আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে বৃদ্ধ বাবা একপর্যায়ে পুনেতে তার মেয়ের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। এরপর নিজের বাড়ি থেকে ছেলেকে উচ্ছেদ করতে এবং মালিকানা ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।
টানা দুই বছর ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে শুক্রবার আদালত বৃদ্ধ বাবা জাফর প্যাটেলের পক্ষে রায় দেয়। আদালত ঘাতক ছেলে আব্দুল রহমানকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের নির্দেশ জারি করে এবং বাবার সম্পূর্ণ মালিকানা ফিরিয়ে দেন।
কিন্তু আদালতের এই রায় বৃদ্ধ বাবার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। আইনি লড়াইয়ে জিতে আদালত থেকে উচ্ছেদের সেই সরকারি আদেশনামা হাতে নিয়ে যখন জাফর প্যাটেল বাড়ি ফিরছিলেন, ঠিক তখন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ছেলে। আব্দুল রহমান মাঝরাস্তায় তার বাবার বহনকারী অটোরিকশাটির গতি রোধ করে। এরপর প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের সামনে নিজের বৃদ্ধ বাবাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। ছুরির আঘাতে ঘটনাস্থলে বাবার মৃত্যু হয়।
এ সময় বাবার সঙ্গে একই অটোরিকশায় থাকা তার বোন (জাফর প্যাটেলের মেয়ে) বৃদ্ধ বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তিনিও ভাইয়ের ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত ঘাতক ছেলে আব্দুল রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে।
