logo

হুতিদের ঠেকাতে এবার জাতিসংঘের দারস্থ ‘দিশেহারা’ সৌদি জোট

ফক্স নিউজ
ফক্স নিউজ
হুতিদের ঠেকাতে এবার জাতিসংঘের দারস্থ ‘দিশেহারা’ সৌদি জোট
অস্ত্রসজ্জিত হুতি বাহিনীর যোদ্ধারা। ছবি: গেটি ইমেজেস

ইরান-সমর্থিত আনসারুল্লাহ হুতি বাহিনীর সামরিক তৎপরতায় রীতিমতো ‘গলায় কাঁটা’র মতো বিপাকে পড়েছে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে চলে যাওয়ায়, এই জলপথ ব্যবহার করে তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা রিয়াদ এখন চরম চাপে রয়েছে।

হুতিদের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক আধিপত্যের মুখে তাদের কৌশলগতভাবে দুর্বল করতে ও নৌপথে মাইন পোঁতা বন্ধে শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘের দ্বারস্থ হয়েছে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় অংশে হুতিদের অনাকাঙ্ক্ষিত মাইন স্থাপনের বিপজ্জনক তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘকে দ্রত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধির কাছে ইতিমধ্যেই একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি পাঠিয়েছে দেশটির সরকার। ওই স্মারকলিপিতে হুতিদের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক এলাকার পাশাপাশি গ্রাম, জনবসতি, কৃষিজমি ও সংযোগ সড়কে নির্বিচারে ছদ্মবেশী অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন পুঁতে রাখার তীব্র অভিযোগ তোলা হয়েছে।

বেসামরিক নাগরিকদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি করায় সৃষ্ট এই মানবেতর পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণভাবে হুতিদেরই দায়ী করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও জোট সমর্থিত ইয়েমেন সরকার।

ইয়েমেনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, হুতিদের দেশজুড়ে একের পর এক পাহাড়, মানুষের বাড়িঘর ও চলাচলের পথে ছদ্মবেশে মাইন লুকিয়ে রাখার কারণে ইয়েমেন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে মাইনদূষিত দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। এসব অবিস্ফোরিত বিস্ফোরকের শিকার হয়ে প্রতিদিন নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সামুদ্রিক পথ সুরক্ষার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক এলাকাগুলো থেকে মাইন অপসারণ কার্যক্রম জোরদার এবং হতাহত পরিবারগুলোকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ইউএনডিপির প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছে ইয়েমেনের সরকার।

এর আগে, ইরানের মাধ্যমে জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা বন্ধের বিনিময়ে হুতিদের ১০০ কোটি ডলারের একটি আর্থিক প্যাকেজ দেওয়ার প্রস্তাব দেয় সৌদি আরব।

সরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান তেহরানে একটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমানে করে এই বিপুল অর্থও নিয়ে যান। তবে হুতিরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে কি না, তাও ওই প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।

তারও আগে, হুতিদের বিরুদ্ধে সংঘাতে যুক্ত হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানায় সৌদি আরব। এ ব্যাপারে ইসরায়েলের সঙ্গেও যোগাযোগ করে উপসাগরীয় দেশটির নেতৃত্ব। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুবরাজ মোহাম্ম্দ বিন সালমানের সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।

ট্রাম্প জানান, হুতিদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, গোষ্ঠীটি লোহিত সাগর কিংবা বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে লক্ষ্যবস্তু করবে না। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের বিরুদ্ধে সংঘাতে লিপ্ত হতে পারবে না।