এসআইআর বিতর্কের মধ্যে আসাম-কেরালা ও পদুচেরিতে হচ্ছে বিধানসভা ভোট

ভারতের এখন ভোটের মৌসুম। দেশটির আসাম, কেরালা রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরিতে (পূর্বনাম পণ্ডিচেরি) নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে ভোটগ্রহণ চলছে। এবার নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির (ভারতীয় জনতা পার্টি) জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে ক্ষমতার জন্য আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে হবে তার দলকে। কেরালায় কখনই জয়ের মুখ দেখেনি বিজেপি।
চলতি মাসের শেষের দিকে বিরোধী শাসিত আরও দুটি রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই পাঁচটি অঞ্চলেরই ভোটের ফলাফল ঘোষণা হবে আগামী ৪ মে। বিরোধী দলগুলোর জন্যও এবারের নির্বাচন বড় পরীক্ষার। কারণ বিজেপির আধিপত্যের বিরুদ্ধে তারা ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে কি না- সেটি এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনেকেই বলছেন, ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বিতর্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচন বিজেপিকে কতটা স্বস্তি দেবে আর বিরোধীদেরই-বা কতটা ‘হাতিয়ার’ হিসেবে কাজ করবে- সেটা বোঝা যাবে ফলাফলেই।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, আসাম, কেরালা, পদুচেরি, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে ভোটার রয়েছে ১৭ কোটি ৪০ লাখ। অর্থাৎ দেশের মোট ভোটারের প্রায় ১৮ শতাংশ। আজ মোট ২৯৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে; এর মধ্যে আসামে ১২৬টি, কেরালায় ১৪০টি এবং পদুচেরিত ৩০টি।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দুপুর ১টা পর্যন্ত আসামে ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৬২ শতাংশ। কেরালায় ভোট পড়েছে ৪৯ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং পদুচেরিতে ৫৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারনৈ ক্রমবর্ধমা জ্বালানি খরচ ও রান্নার গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়া নিয়ে জনমনে উদ্বেগ থাকার মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মোদি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোটারদের বিশেষ করে নারী ও তরুণদের তাদের গণতান্ত্রিক কর্তব্য পালনের জন্য ভোটকেন্দ্রে যাওয়া আহ্বান জানিয়েছেন।
পাঁচটি অঞ্চলে ৮২৪টি আসনে অনুষ্ঠিতব্য এই গ্রীষ্মকালীন নির্বাচনটি ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) নামে পরিচিত ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সৃষ্ট ব্যাপক বিতর্কের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন বলছে, এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো নকল বা পুরোনো নামগুলো বাদ দিয়ে বৈধ নাম যুক্ত করা।
কিন্তু বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য লাখ লাখ ভোটার, বিশেষ করে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দিতে এটি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আসামের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন, পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিয়ে উদ্বেগের দ্বারা প্রভাবিত। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে এই উত্তেজনা বরাবরই আলোচনায় থাকে। বিজেপি এক দশক ধরে রাজ্য শাসন করেছে। তাই এই নির্বাচনটি তাদের আধিপত্য ধরে রাখতে পারার একটা পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি, দ্য হিন্দু, টাইমস অব ইন্ডিয়া