logo

ইরানে হামলা হলে ‘আঞ্চলিক যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি খামেনির

ইরানে হামলা হলে ‘আঞ্চলিক যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি খামেনির

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি জড়ো করে ইরানের ওপর হামলা চালান, তাহলে তা শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে এক অনুষ্ঠানে খামেনি বলেন, ‘আমেরিকার জানা উচিত, এবার যদি তারা যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে সেটা আঞ্চলিক যুদ্ধ হবে।’

১৯৭৯ সালে ফ্রান্স থেকে নির্বাসন শেষে ইরানে প্রত্যাবর্তন করেন খামেনি। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবার্তা দেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। খবব আলজাজিরার।

খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আসলে ইরানের বিপুল তেল ও গ্যাস সম্পদের দখল নিতে চায়। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভগুলো সাধারণ প্রতিবাদ ছিল না, বরং তা একধরনের অভ্যুত্থানের মতো ছিল। ওই সময় সরকারি অফিস, ব্যাংক ও মসজিদে হামলা চালানো হয়।

তিনি এই অস্থিরতাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এর আগে ২০০৯ সালের সবুজ আন্দোলনের ক্ষেত্রেও এমনটা বলেছিলেন। খামেনির মতে, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল দেশ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা, তাই পুলিশ, সরকারি ভবন, আইআরজিসি স্থাপনা, ব্যাংক ও মসজিদ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি আশা করেন ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে। খামেনির সতর্কবার্তা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই তিনি এমন কথা বলবেন। আশা করি, আমরা একটা চুক্তি করব। যদি না করি, তাহলে দেখা যাবে তিনি ঠিক ছিলেন কি না।’

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ব্যবসায়িক এলাকায় দোকানদাররা প্রথমে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ইরানের দ্রুত অর্থনৈতিক অবনতি, স্থানীয় দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিষেধাজ্ঞার কারণে রিয়ালের মূল্যপতনের প্রতিবাদ করছিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই এই বিক্ষোভ শুধু অর্থনৈতিক ইস্যুতে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। শক্ত হাতে দমন করে ইরান সরকার।

জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং বিদেশে থাকা ইরানি বিরোধীরা দাবি করেছেন, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হাজার হাজার মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের এক বিশেষ প্রতিনিধি বলেছেন, ইন্টারনেট দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় প্রকৃত তথ্য দেরিতে আসছে এবং নিহতের সংখ্যা ২০ হাজারেরও বেশি হতে পারে।

অন্যদিকে ইরান সরকার বলছে, এই সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অর্থায়নে পরিচালিত সশস্ত্র ‘সন্ত্রাসীরা’ দায়ী। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জন বেসামরিক নাগরিক ও বাকিরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।