২০২৫ সালে সাংবাদিক হত্যায় বিশ্ব রেকর্ড

২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ১২৯ জন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় বছর এ ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এসব হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের জন্য ইসরায়েল দায়ী। ফলে ১৯৯২ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু করার পর থেকে গাজা উপত্যকার সংঘাত সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছে। এসব তথ্য জানিয়েছে কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে)।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি গুলিতে ৮৫ জন সংবাদকর্মী নিহত হন। এর মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি ফিলিস্তিনি ছিলেন। তারা গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে সাংবাদিকতা করতেন। তবে, সবচেয়ে মারাত্মক ঘটনাটি ঘটে ইয়েমেনে। সেখানে দুটি সংবাদপত্র অফিসে ইসরায়েলি সামকির বাহিনীর (আইডিএফ) বিমান হামলায় ৩১ জন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হন।
নিউইয়র্কভিত্তিক এই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনে ৪৭টি হত্যাকাণ্ডকে লক্ষ্যভিত্তিক হত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই হত্যার মধ্যে ৮১ শতাংশের জন্য ইসরায়েল দায়ী বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে এসব হত্যার ক্ষেত্রে খুব কম স্বচ্ছ তদন্ত হয়েছে এবং কোনো মামলায় কাউকে জবাবদিহি করা হয়নি।
আইডিএফ সিপিজের অভিযোগ ‘জোরালভাবে’ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা সাংবাদিক বা তাদের পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতি করে না।
বিবৃতিতে আইডিএফ আরও বলেছে, প্রতিবেদনে ‘সাধারণ অভিযোগ, অজানা উৎসের তথ্য এবং পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত’ ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে যুদ্ধের জটিলতা বা বেসামরিকদের ক্ষতি কমানোর আইডিএফের প্রচেষ্টা বিবেচনা করা হয়নি।
এই ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে এমন সময়ে যখন গাজায় ইসরায়েলি কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দার মুখোমুখি। পশ্চিম জেরুজালেম নিয়মিতভাবে যুদ্ধাপরাধ এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগের মুখোমুখি হচ্ছে।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের প্রতিবেদনে ‘জাতিগত নির্মূল’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বেসামরিক অবকাঠামোর তীব্র আক্রমণ ও ধ্বংস ‘ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত করার লক্ষ্যে’ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য ‘দায়মুক্তির ব্যাপক পরিবেশ’ বিরাজ করছে।
ইসরায়েল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষদের লক্ষ্য করে না, বরং হামাসকে নির্মূল করাই তাদের অভিযান লক্ষ্য।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস ইসরায়েলে হামলার পর আইডিএফ গাজার ওপর অভিযান শুরু করে। এতে কমপক্ষে ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান