logo

ট্রাম্প কি এরপরও ইরানে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবেন

ট্রাম্প কি এরপরও ইরানে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবেন

ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও আলোচনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি। তবে তাকে এখন নিজের দেশেই একটি কঠিন আইনি সময়সীমা বা ডেডলাইনের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, ট্রাম্পের হাতে আগামী ১ মে পর্যন্ত সময় আছে কংগ্রেসের অনুমোদন পাওয়ার জন্য। আইন অনুযায়ী, কোনো সংঘাতের ২ মাস বা ৬০ দিন পার হয়ে গেলে প্রেসিডেন্টের জন্য কংগ্রেসের বিশেষ অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। অনুমোদন না পেলে তাকে সামরিক অভিযান গুটিয়ে নিতে হবে।

ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট কী?

কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিদেশের মাটিতে যুদ্ধ করার ক্ষমতা সীমিত করতে ১৯৭৩ সালে এই আইনটি করা হয়। এর আওতায় প্রেসিডেন্টকে সামরিক অভিযান শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে জানাতে হয়। কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া সর্বোচ্চ ৬০ দিন, বিশেষ প্রয়োজনে আরও ৩০ দিনসহ মোট ৯০ দিন সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখা যায়। এই সময় পার হওয়ার পর কংগ্রেস যদি যুদ্ধ ঘোষণা না করে, তবে প্রেসিডেন্টকে সেনা প্রত্যাহার করতে হয়।

ট্রাম্প কি কংগ্রেসের অনুমোদন পাবেন?
কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে গভীর মতভেদের কারণে এই অনুমোদন পাওয়া এখন অনেকটাই অনিশ্চিত।

গত ১৫ এপ্রিল মার্কিন সিনেটে ট্রাম্পের যুদ্ধ সীমিত করার একটি প্রস্তাব ৫২-৪৭ ভোটে নাকচ হয়ে যায়।

অনেক রিপাবলিকান নেতা জানিয়েছেন, তারা ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া এই যুদ্ধের পক্ষে নন। তাদের মতে, আইন অনুযায়ী অনুমোদন না পেলে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।

যুদ্ধ কি সত্যিই থেমে আছে?
কাগজে কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও উত্তেজনা কমেনি। গত সোমবার আরব সাগরে একটি ইরানি জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন বাহিনী। এরপর ইরানও দুটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করে। বুধবার এশিয়ার জলসীমায় আরও তিনটি ইরানি ট্যাংকার আটকে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ট্রাম্প কি আইন এড়িয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প আইন এড়িয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারেন।

১. সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন: ২০০১ ও ২০০২ সালে পাস হওয়া এই বিশেষ ক্ষমতার দোহাই দিয়ে আগের প্রেসিডেন্টরাও অনেক যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। ট্রাম্প নিজেও ২০২০ সালে কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার সময় এই ক্ষমতার ব্যবহার করেছিলেন।

২. সংজ্ঞা পরিবর্তন: ওবামা প্রশাসনের মতো ট্রাম্পও দাবি করতে পারেন যে, বর্তমানে যা চলছে (যেমন নৌ অবরোধ বা সীমিত অভিযান) তা আইনি ভাষায় সক্রিয় সংঘাত বা যুদ্ধ নয়। ফলে এক্ষেত্রে ৬০ দিনের বাধ্যবাধকতা কার্যকর হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ মার্কিনি এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে। সামনেই মধ্যবর্তী নির্বাচন, তাই ট্রাম্পের জন্য পিছু হটা মানে পরাজয় মেনে নেওয়া। জুয়াড়ির মতো ট্রাম্প হয়তো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই সংঘাত চালিয়ে গিয়ে কোনো এক ধরনের বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

তবে শেষ কথা হলো, ১ মের ডেডলাইনটি ট্রাম্পের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। ওই ডেডলাইন পার হলে তিনি কি কংগ্রেসের মুখোমুখি হবেন নাকি আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন—সেটাই এখন দেখার বিষয়।