logo

ইরানের হামলায় বিশ্বের বড় দুই অ্যালুমিনিয়াম কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত

ইরানের হামলায় বিশ্বের বড় দুই অ্যালুমিনিয়াম কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সবচেয়ে ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলায় বিশ্বের অন্যতম বড় দুই অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। 

শনিবার (২৮ মার্চ) কারখানাগুলো মার্কিন সামরিক বাহিনীর রসদ ও সরঞ্জাম সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত দাবি করে তেহরানের এ হামলা চালিয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ। 

আবুধাবিতে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম (ইজিএ) জানিয়েছে, তাদের প্রধান কারখানায় ভয়াবহ হামলা হয়েছে। এতে স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।

একই সময়ে হামলার শিকার হয়েছে বাহরাইনে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদক প্রতিষ্ঠান অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন (আলবা)। সেখানেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) রোববার জানিয়েছে, তারা সপ্তাহান্তে বাহরাইন এবং আরব আমিরাতের অ্যালুমিনিয়াম কারখানাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তারা এই শিল্পগুলোকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত বলে অভিহিত করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়েছে। 

ফেব্রুয়ারির শেষে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করার আগে মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে বাহরাইন এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো নিয়মিত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, আরব আমিরাত ও বাহরাইনের প্রধান অ্যালুমিনিয়াম কারখানা দুটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ও মহাকাশ খাতের সঙ্গে যুক্ত। উপসাগরীয় দেশগুলোর ঘাঁটি থেকে ইরানি শিল্প অবকাঠামোতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাহরাইনের আলবা জানিয়েছে, শনিবার তাদের স্থাপনায় ইরানি হামলায় দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন। তাদের আঘাত সামান্য। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা কার্যক্রমের ওপর প্রভাব মূল্যায়ন করছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানায়নি।

আরব আমিরাতের ইজিএ নিশ্চিত করেছে, আবুধাবির খলিফা ইকোনমিক জোনে তাদের আল-তাওয়েলা সাইটটি ইরানি হামলায় উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হলেও কারও আঘাত প্রাণঘাতী নয়। 

ইজিএ-এর প্রধান নির্বাহী আব্দুল নাসের বিন কালবান বলেন, কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছি। 

আলজাজিরার সাংবাদিক জেইন বাসরাভি বলেছেন, বিশ্বের মোট অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৯ শতাংশ এই অঞ্চল থেকে আসে। এ কারণে এই হামলা বৈশ্বিক সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে এই ইজিএ ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন টন ধাতু উৎপাদন করেছিল।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতের প্রতিরক্ষা বাহিনী রোববার ভোরে জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা নতুন দফার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সক্রিয়ভাবে প্রতিহত করছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সকালে কয়েক ঘণ্টায় ১০টি ড্রোন ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে। 

আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুধু শনিবার (২৮ মার্চ) তারা ২০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ৩৭টি ড্রোন প্রতিহদ করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তারা ৩৯৮টি ব্যালিস্টিক মিসাইল, ১৫টি ক্রুজ মিসাইল এবং ১ হাজার ৮৭২টি ড্রোন প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, বাহরাইন ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৩৮৫টি ড্রোন এবং ১৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।