logo

গাজার উদ্দেশে আবারও যাত্রা করবে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’

গাজার উদ্দেশে আবারও যাত্রা করবে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দিতে আবারও উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আয়োজকেরা। এবার বহরে গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি নৌকা থাকবে। এতে অংশ নেবেন শত শত চিকিৎসকসহ এক হাজারের বেশি অধিকার কর্মী।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এই ঘোষণার কথা জানিয়েছে তুর্কি সংবাদমাধ্যম সাবা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশনে নতুন মিশনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানে বক্তাদের মধ্যে ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা। আয়োজকেরা জানান, এবার তারা প্রায় ১০০টি নৌকা নিয়ে যাত্রা করতে চান এবং এটিকে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় বেসামরিক নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেন।

আয়োজকেরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন ইসরায়েল এই মানবিক অভিযানে বাধা না দেয়। সমাবেশে মান্ডলা ম্যান্ডেলা বলেন, ‘এটি তাদের জন্য একটি কারণ, যারা সবার জন্য ন্যায়বিচার ও মর্যাদার পক্ষে দাঁড়াতে চান। আমরা চাই, বিশ্ব সম্প্রদায় আমাদের সঙ্গে যুক্ত হোক।’

জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত অক্টোবরে তথাকথিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর গাজার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে লাখ লাখ প্যালেট মানবিক সহায়তা প্রবেশ করেছে। তবে নতুন নিবন্ধন নীতির কারণে ইসরায়েল গাজায় দুই ডজনের বেশি মানবিক সংস্থার কার্যক্রম স্থগিত করেছে। ফলে অঞ্চলটির ২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি এখনও তীব্র মানবিক সংকটে রয়েছেন।

যুদ্ধবিরতির পর গাজা উপত্যকার ৫৩ শতাংশেরও বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেখানে বসবাসকারী মানুষকে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রায় পুরো জনসংখ্যা এখন উপকূলের একটি সংকীর্ণ এলাকায় গাদাগাদি করে বসবাস করছে। বেশির ভাগ মানুষ অস্থায়ী তাঁবু বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন।

গত অক্টোবরে অবরুদ্ধ গাজায় পৌঁছানোর চেষ্টা করলে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র প্রায় ৫০টি নৌকা ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে। সে সময় সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থানবার্গসহ ৪৫০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের একজন ছিলেন মান্ডলা ম্যান্ডেলা। গাজা উপকূলে পৌঁছানোর আগেই ইসরায়েলি বাহিনী নৌবহর আটক করলে অন্যদের সঙ্গে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

আয়োজকদের ভাষ্য, আসন্ন অভিযানে চিকিৎসক, যুদ্ধাপরাধ তদন্তকারী ও প্রকৌশলীসহ এক হাজারের বেশি কর্মী অংশ নেবেন। নৌবহরটির পাশাপাশি একটি স্থল বহরও থাকবে, যা তিউনিসিয়া ও মিশরসহ বিভিন্ন দেশে আরও হাজার হাজার কর্মীকে যুক্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নৌকাগুলো স্পেন, তিউনিসিয়া ও ইতালি থেকে যাত্রা শুরু করবে।

মান্ডলা ম্যান্ডেলা বলেন, ‘এবার আমরা আশা করছি, লাখ লাখ মানুষ স্বাক্ষরের মাধ্যমে সংহতি জানাবে এবং মিশর, লেবানন, জর্ডানসহ গাজায় প্রবেশের সম্ভাব্য সব সীমান্ত দিয়ে মানুষ এগিয়ে আসবে।’

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি তারা জানেন, তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এ ধরনের মানবিক অভিযানে বাধা দেওয়া বেআইনি। স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ব্রাজিলিয়ান কর্মী থিয়াগো আভিলা বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত গাজায় মানবিক মিশনে বাধা না দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে।

নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশনে ব্রিফিং আয়োজনের কারণ ব্যাখ্যা করে মান্ডলা ম্যান্ডেলা বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি নেলসন ম্যান্ডেলার দীর্ঘদিনের সমর্থন তুলে ধরতেই এই স্থান বেছে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ থেকে ইসরায়েলের উপ-রাষ্ট্রদূত বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।