logo

ইরানের আরও কয়েকটি দ্বীপে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের আরও কয়েকটি দ্বীপে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ইতোমধ্যে এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি সরবরাহে রেশনিং চালু করেছে। সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টাও কমিয়ে এনেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ। ইউরোপ ও আফ্রিকাও জ্বালানি ‘জট’ থেকে নিস্তার পায়নি।

এমতাবস্থায় আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইরানে শনিবার (১৪ মার্চ) ইরান উপকূলে খারগ দ্বীপের সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘ভদ্রতা দেখিয়ে’ এখনও ওই দ্বীপের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালায়নি। যদি হরমুজ প্রণালির অবরোধ ইরান তুলে না নেয়, তাহলে হামলা করতে দ্বিতীয়বার ভাববেন না তিনি। ট্রাম্পের এমন হুঁশিয়ারির মধ্যে কিছুটা নমনীয় হয়েছে তেহরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, চীনের মুদ্রা ইউয়ানে তেলের মূল্য পরিশোধ করলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার জাহাজ চলাচলে অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরান।

ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে না নিলে হরমুজ প্রণালির নিকতবর্তী আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এসব দ্বীপের মধ্যে কিশ দ্বীপ অন্যতম। এর আগে খারগ দ্বীপ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আর সম্ভাব্য পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত আবু মুসা দ্বীপ।

ইরানে অবস্থানকালে আলজাজিরাকে প্রতিবেদককে দেশটির এক কর্মকর্তা জানান, আবু মুসা দ্বীপকে ঘিরে সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য ইরানি সেনাবাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই দ্বীপটি হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত, আর খারগ দ্বীপটি তুলনামূলকভাবে আরও উত্তরে। পরিস্থিতি এমন হতে পারে যে, যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপপুঞ্জে অভিযান চালানোর আগে কিছু প্রস্তুতিমূলক তৎপরতা দেখা যাবে, এমনকি স্থল সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে তৎকালীন ওবামা প্রশাসনের একজন সাবেক উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা সম্প্রতি বলেছেন, শুধু দ্বীপপুঞ্জ নয়, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের আহভাজ অঞ্চলেও মার্কিন স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনায় আসছে। এই এলাকায় ইরানের অধিকাংশ তেল ও গ্যাস উত্তোলন করা হয়।

পারস্য উপসাগরে ইরানের নিজস্ব প্রায় ৩০টি ছোট-বড় প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম দ্বীপ রয়েছে। এর মধ্যে কিশ, কেশম, হরমুজ, হাঙ্গাম, লাভান, লারাক ও মিনু বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই দ্বীপগুলোর মধ্যে কেশম ইরানের সবচেয়ে বড় দ্বীপ। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অন্য দ্বীপগুলোর মধ্যে আবু মুসা, বৃহত্তর ও ক্ষুদ্রতর তুম্ব এবং প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ অন্যতম। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির কাছে খারগ দ্বীপের মার্কিন আক্রমণ হিতে বিপরীত হতে পারে। কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির প্রভাষক জেইদন আলকিনানি জানান, কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির প্রভাষক জেইদন আলকিনানি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে খার্গ দ্বীপের তেল স্থাপনা ধ্বংস করার অধিকার রয়েছে—ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন সতর্কবার্তা উদ্বেগজনক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘কিছু আঞ্চলিক পক্ষ যেখানে উত্তেজনা কমার আশা করছিল, সেখানে ট্রাম্পসহ রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য সম্ভাব্য সমঝোতার পথ থেকে সরে গিয়ে আরও কঠোর অবস্থানের দিকে যাচ্ছে। উভয়পক্ষই এখন নিজেদের অবস্থানে অনড়। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর পরিস্থিতির চেয়েও বড় প্রভাব পড়তে পারে। কারণ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার কারণে পশ্চিমা বিশ্বসহ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর বড় চাপ তৈরি হচ্ছে।’