logo

হরমুজ প্রণালিতে মাইনহান্টার মোতায়েনে আগ্রহী বেলজিয়াম

হরমুজ প্রণালিতে মাইনহান্টার মোতায়েনে আগ্রহী বেলজিয়াম

যুক্তরাজ্য, স্পেনের মতো ইউরোপীয় দেশ যখন ইরান যুদ্ধ থেকে নিজেদের গা বাঁচানোর চেষ্টা করছে, তখনই স্ব-প্রণোদিত হয়ে এই সংঘাতে জড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছে বেলজিয়াম। বিশ্বের প্রধান খনিজ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানি অবরোধ ভাঙতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের সাহায্য কামনা করেছেন। তবে কেউই তারা সাড়া দেয়নি। যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসে এই সংর্কীণ জলপথে মাইনহান্ডার মোতায়েনে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে ব্রাসেলস।

সোমবার (৩০ মার্চ) বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু। তবে এক্ষেত্রে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা বেলগার বরাত দিয়ে স্থানীয় রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রিভো বলেছেন, বেলজিয়াম একটি আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে প্রণালিটি সুরক্ষিত করতে সাহায্য করতে আগ্রহী। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে মাইনহান্টারগুলো মোতায়েন করা হতে পারে।

সম্প্রতি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, বেলজিয়াম একটি ‘আনুপাতিক অংশ’ নিয়ে ৩২ দেশের একটি যৌথ জোটে যোগ দিতে পারে। এই জোটের মূল লক্ষ্য হবে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা।

তবে বেলজিয়াম শুরুতেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, এই ধরনের মিশনে অংশগ্রহণ মানে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করা নয়। এই হস্তক্ষেপ ‘আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে’ শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন যে দ্রুত ‘বিজয়ের’ কথা বলছে, সেটি এখনই ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী থিও ফ্রাঙ্কেন নিশ্চিত করেছেন যে, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে অবাধ সামুদ্রিক চলাচল নিশ্চিত করতে বেলজিয়াম জোটে যোগ দেবে। ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির মতো পরিস্থিতি অনুকূল হলে’ বেলজিয়াম এই লক্ষ্য অর্জনে ফ্রান্স ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নৌচলাচলের স্বাধীনতা অপরিহার্য।

গত ২ মার্চ ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অনুমতি ছাড়া এই পথ অতিক্রমের চেষ্টাকারী যে কোনো জাহাজে হামলা চালানোর হুমকি দেয় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়। অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, জাহাজ চলাচল ও বিমার খরচ বেড়ে গেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বিমান হামলা চালানোর পর থেকে পুরো অঞ্চলটি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ওই হামলা তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তেহরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক ও মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনকারী উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে।