logo

কিয়েভে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, স্বীকার রাশিয়ার

কিয়েভে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, স্বীকার রাশিয়ার
কিয়েভে হাইপাসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিধ্বংসী দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

রোববার (২৪ মে) ভোরের ওই হামলায় বিধ্বংসী দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছে বাসিন্দারা। পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় কিয়েভে। এতে চারজন নিহত ও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছে রাশিয়া।

ভয়াবহ ওই হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা গেছে, একটি হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মধ্য কিয়েভে আঘাত হানছে। আঘাত হানার মুহূর্তে হঠাৎ তীব্র আলোর ঝলকানি দেখা যায়। এরপরেই একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দাবি, কিয়েভে রাতভর হামলায় রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ‘ওরেশনিক’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ‘ওরেশনিক’ হলো একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা শব্দের গতির ১০ গুণ বেগে চলতে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘তিন, চার বা তারও বেশি তলা নিচে’ অবস্থিত ভূগর্ভস্থ বাংকার ধ্বংস করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

এদিকে কিয়েভ নগর সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কোর দাবি, এই হামলায় ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

দেশটির কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়ার হামলায় প্রায় ৬০০টি ড্রোন ও ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্যমতে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোর মধ্যে অনেকগুলোকে ভূপাতিত করতে পারলেও, সবগুলো পারেনি। রাশিয়ার এই হামলায় চারজন নিহত ও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।

ইউরোমাইদান প্রেসের তথ্যমতে, হামলায় লুকিয়ানিভস্কা মেট্রো স্টেশনের নিকটবর্তী একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও একটি বাজার সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর মধ্যে একটি ছোট ক্যাফেও ছিল, যেটি পূর্ববর্তী রুশ হামলার পর ইতোমধ্যে ছয়বার পুনর্নির্মাণ করে পুনরায় চালু করা হয়েছিল। রাজধানীসহ অন্যান্য অঞ্চলে বাড়িঘর, স্কুল, বাজার ও বাণিজ্যিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তাকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে লিখেছেন, গত রাতে ইউক্রেনের রাজধানী ‘ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার’ শিকার হয়েছে। শেভচেনকিভস্কি, দনিপ্রোভস্কি ও পোদিলস্কিসহ বেশ কয়েকটি জেলা এই অতর্কিত হামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে শহরজুড়ে একাধিক অগ্নিকাণ্ড ও আবাসিক ভবন ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া একটি শক্তিশালী অস্ত্র ওরেশনিক হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এ ছাড়াও একটি পানি সরবরাহ কেন্দ্রে তিনটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র, একটি বাজার ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, কয়েক ডজন আবাসিক ভবন ও বেশ কয়েকটি সাধারণ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্য ইউক্রেনের বিলা সের্কভায় ‘ওরেশনিক’ নিক্ষেপ করেছে মস্কো। তারা সত্যিই উন্মাদ।

ওরেশনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা বলেছে, ইউক্রেনের সামরিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, বিমানঘাঁটি এবং সামরিক-শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা চালানোর জন্য ওরেশনিকসহ অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। কিন্তু লক্ষ্যবস্তুগুলোর অবস্থান সুনির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।

রাশিয়া সর্বপ্রথম ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইউক্রেনের দনিপ্রো শহরে একাধিক ওয়ারহেডযুক্ত ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। বার্তা সংস্থার এপির তথ্যমতে, গত জানুয়ারিতে পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভ অঞ্চলে ওরেশনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা হয়েছিল।