logo

ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি হারাতে পারেন ৩৬ লাখ মানুষ

ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি হারাতে পারেন ৩৬ লাখ মানুষ

ইরানে পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলমান যুদ্ধের বড় প্রভাব পড়তে পারে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর অর্থনীতিতে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) নতুন এক মূল্যায়নে আশঙ্কা করা হয়েছে, যুদ্ধের পর দেশগুলোতে বেকারত্ব ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে, এবং এর প্রভাবে দেশগুলোতে ৩৬ লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারেন, নতুন করে দারিদ্র্যের শিকার হতে পারেন আরো ৪০ লাখ মানুষ।

‘মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা: আরব দেশগুলোতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব’ শীর্ষক ইউএনডিপির ওই প্রতিবেদন দেখায়, এ যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর সমন্বিত জিডিপি ৩ দশমিক ৭ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত ধসিয়ে দিতে পারে। যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রায় ১২০ থেকে ১৯৪ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে। এই পরিমাণ ২০২৫ সালে দেশগুলোর সমন্বিত মোট আঞ্চলিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির চেয়েও বেশি।

যুদ্ধের পর দেশগুলোতে বেকারত্বের হার ৪ পয়েন্ট শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, সবমিলে চাকরি হারাতে পারেন প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ। ইউএনডিপি জানাচ্ছে, এই পরিমাণ গত এক বছরে এ অঞ্চলে সৃষ্টি হওয়া নতুন চাকরির চেয়ে বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আরব দেশগুলোর কাঠামোগত অবস্থান এমন যে, স্বল্পমেয়াদি সামরিক সংঘাতও এখানে গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী ক্ষত তৈরি করতে পারে।

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব ও ইউএনডিপির আরব রাষ্ট্র ব্যুরোর পরিচালক আবদাল্লাহ আল দারদারি বলেন, ‘এই সংকট অঞ্চলটির জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে কাজ করছে। তাদের আর্থিক, খাতভিত্তিক ও সামাজিক নীতির কৌশলগত দিকগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অনুসন্ধানগুলো আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ধাক্কা ও সংঘাতের ঝুঁকি কমানোর জন্য তাদের জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতির বাইরে এসে অর্থনীতিকে বহুমুখীকরণ, উৎপাদন সম্প্রসারণ, বাণিজ্য ও লজিস্টিক ব্যবস্থাকে নিরাপদ করা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।’

ইউএনডিপি জানিয়েছে, এই মূল্যায়নে কম্পিউটেবল জেনারেল ইকুইলিব্রিয়াম বা সিজিই মডেল ব্যবহার করে চার সপ্তাহের সংঘাতের ফলে সৃষ্ট বিঘ্নের মাত্রা বের করার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে বাণিজ্য ব্যয় বৃদ্ধি, সাময়িক উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং স্থানীয়ভাবে মূলধন ধ্বংসসহ বিভিন্ন প্রভাবের পথ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি দেখায়, এই প্রভাব অঞ্চলজুড়ে সমান নয়, বরং বিভিন্ন উপঅঞ্চলের কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের কারণে তা ভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়। সবচেয়ে বেশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) এবং সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, ইসরায়েল, জর্ডান ও তুরস্কের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত লেভান্ট অঞ্চলের দেশগুলোতে। এসব অঞ্চলে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের পতন দেখা দিতে পারে।

ইউএনডিপির সতর্কতা, দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাবে লেভান্ট ও স্বল্পোন্নত আরব দেশগুলোতে, যেখানে আগে থেকেই ঝুঁকি বেশি এবং অর্থনৈতিক ধাক্কা সরাসরি মানুষের জীবনমানের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।