কলকাতার চায়না টাউনে ভোটের লড়াই, চীনা ভাষায় চলছে প্রচার

বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে, তখন তার ব্যতিক্রম নয় কলকাতার চায়না টাউনও। শহরের এই অনন্য এলাকায় বসবাসকারী চীনা বংশোদ্ভূত ভোটারদের মন জয় করতে রাজনৈতিক দলগুলো চালাচ্ছে ভিন্নধর্মী প্রচার।
দেওয়াল লিখন, পোস্টার, ব্যানার সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে চীনা ম্যান্ডারিন ভাষার ব্যবহার। বিষয়টি শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবতা হলো, এই এলাকাতেই বাস করেন প্রায় দুই হাজার চীনা বংশোদ্ভূত ভারতীয় ভোটার, যাদের ভোট পেতেই চলছে নানা কৌশল ও উদ্যোগ।
১৯৬২ সালের ইন্দো চিন যুদ্ধের পর কাজের সন্ধানে বহু চীনা পরিবার ভারতে চলে আসে। তাদের একটি অংশ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে কলকাতায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ট্যাংরা এলাকায় গড়ে ওঠে তাদের প্রধান আবাসস্থল।
ইতিহাস বলছে, ১৭৭৮ সালে ওয়াং চাউ নামে এক ব্যক্তি প্রথম কলকাতায় আসেন। তার হাত ধরেই এখানে চীনা সম্প্রদায়ের বসতি গড়ে ওঠা শুরু হয়। তারা মূলত চামড়ার ব্যবসা ও খাবারের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
বর্তমানে ট্যাংরায় প্রায় দুই হাজার চীনা বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস। তারা এখন পুরোপুরি ভারতীয় নাগরিক। অনেকেই সাবলীলভাবে বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারেন। কেউ খাবারের দোকান চালান, কেউ অন্য পেশায় যুক্ত।
বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে এই এলাকাতেও শুরু হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। অন্যান্য এলাকার মতো এখানেও চলছে প্রচার, তবে বিশেষত্ব হলো ভাষার ব্যবহার। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিজেপি, সিপিএম ও তৃণমূলসহ সব দলই চীনা ভাষায় প্রচার চালাচ্ছে।
ট্যাংরা এলাকা কসবা বিধানসভার অন্তর্ভুক্ত। এখানে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাভেদ খানের সমর্থনে চীনা ভাষায় ব্যাপক দেওয়াল লিখন করেছে দলটি। তাদের প্রচারে গুরুত্ব পাচ্ছে লক্ষ্মীর ভান্ডার, যুবশ্রী, কন্যাশ্রী ও স্বাস্থ্যসাথীর মতো সামাজিক প্রকল্প।
স্থানীয় পর্যায়ে চীনা ভোটারদের মধ্যে তৃণমূলের প্রভাব লক্ষণীয়। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে এই এলাকায় দলটি এগিয়ে ছিল। ফলে এবারের প্রচারেও তারা বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে।
তৃণমূলের এক নেত্রী জানান, চীনা নারীদের কাছ থেকে পাওয়া একটি স্লোগান তারা দেওয়ালে লিখছেন, যার মূল বক্তব্য হলো পরিবার ও নারীদের জন্য দেওয়া ভাতার পক্ষে সমর্থন। এই প্রকল্পের সুবিধা স্থানীয় চীনা নারীরাও পাচ্ছেন।
এলাকার ভোটাররা জানান, তারা রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন এবং সক্রিয়ভাবে ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।
অন্যদিকে, শুধু চাইনিজ নয়, হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজিতেও প্রচার চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, ভোটারদের সুবিধার জন্যই তাদের মাতৃভাষায় এই প্রচার করা হচ্ছে।
চায়না টাউনে দেওয়ালে লিখছেন লালবাবু প্রসাদ নামের এক শিল্পী। তিনি বিহারের বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে থাকতে থাকতে কিছুটা চীনা ভাষা বুঝতে শিখেছেন। তিনি বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় দেওয়ালে লিখছেন।
এক রাজনৈতিক নেতা জানান, এলাকায় বিভিন্ন ধর্ম ও ভাষার মানুষের বসবাস থাকায় সব ভাষাতেই প্রচার চালাতে হয়। এতে ভোটারদের কাছে পৌঁছানো সহজ হয়।