শান্তি আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করছে ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথমবারের মতো সরাসরি এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় বসেছে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে দুই দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আলজাজিরার সাংবাদিক কিম্বার্লি হ্যালকেট পাকিস্তান থেকে লিখেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এই আলোচনার স্বস্তিদায়ক পরিবেশে নতুন করে উত্তেজনার পারদ ছড়িয়ে দিয়েছে।’
শনিবার আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, আগেই নির্ধারিত ছিল, এই আলোচনা পরোক্ষভাবে হবে। অর্থাৎ দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলাদা কক্ষে বসবেন এবং পাকিস্তানি কূটনীতিকরা তাদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করবেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে শনিবার দুই পক্ষ সরাসরি মুখোমুখি টেবিলে বসে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার শুরু থেকেই যথেষ্ট নমনীয় ও সতর্ক ছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ইরান সদিচ্ছা দেখালে যুক্তরাষ্ট্রও খোলামনে আলোচনা করতে প্রস্তুত। প্রতিনিধিদলের বডি ল্যাঙ্গুয়েজেও শান্তি স্থাপনের স্বস্তিদায়ক ইঙ্গিত ছিল।
তবে আলোচনা চলাকালীন ওয়াশিংটন থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট পরিস্থিতি পাল্টে দেয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো যখন বলছে ‘ইরান বড় জয় পাচ্ছে’, তখন তার পাল্টা জবাবে ট্রাম্প পোস্টে লেখেন, ‘ইরান আসলে বড় ধরনের পরাজয়ের শিকার হচ্ছে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচনার টেবিলে যখন সমঝোতার সুর বাজছিল, তখন ট্রাম্পের এমন ‘আক্রমণাত্মক’ ও ‘জাঁকজমকপূর্ণ’ ভাষা পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যে যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টা করছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য সেই কাজকে আরও কঠিন করে দিয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, প্রায় ৪৭ বছর পর এই প্রথমবারের মতো দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলো সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের চেষ্টা করছে। প্রতিনিধিদলগুলো একদিনের জন্য ইসলামাবাদে অবস্থান করবে। কিন্তু নিম্ন পর্যায়ের আলোচনা অর্থাৎ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইসলামাবাদে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে মুখোমুখি ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার উপস্থিত রয়েছেন। ইরানের পক্ষে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
মার্কিন পক্ষ ইরানি পক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও এই আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।