Advertisement

ইরানের ‘কৌশলী’ হামলায় আরও মার্কিন সেনা নিহত

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ইরানের ‘কৌশলী’ হামলায় আরও মার্কিন সেনা নিহত
সেনা সদস্যের কফিন বহন করছেন কয়েকজন মার্কিন সেনা। পুরোনো ছবি

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়াল। উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি কামিকাজে ড্রোন থেকে অবিস্ফোরিত যুদ্ধাস্ত্রের নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণে নতুন করে হতাহতের পর এই মোট সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৩০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

রোববার (১৯ জুলাই) মার্কিন সামকির বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, ১৮ জুলাই উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) হামলাকারী ড্রোনের অবিস্ফোরিত যুদ্ধাস্ত্র নিয়ন্ত্রিতভাবে নিষ্ক্রিয় করার সময় এক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন সেনা আহত হয়েছেন। সামান্য আঘাত পাওয়ায় তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মার্কিন সামরিক কমান্ড আরও জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় কিছু দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। নিহত, আহত ও নিখোঁজ সেনাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের পরিচয়সহ এ বিষয়ে আপাতত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সেন্টকম।

এর আগে, ১৭ জুলাইয়ের একটি ইরানি হামলার পর জর্ডানে দুজন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে বিবৃতি দেয় সেন্টকম। এতে আরও একজন নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়। ব্যাপক তল্লাশির পর মার্কিন সামরিক কর্মীরা পরদিন ভোরে ওই স্থান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে। দেহাবশেষটি যাচাই করার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে।

মার্কিন সামরিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, তথ্য অনুযায়ী, গত ১ মার্চ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপর প্রথম মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনা ঘটে। ওই দিন কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে ইরানের একটি ড্রোন আঘাত হানলে ঘটনাস্থলে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন।

একই দিনে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে চালানো অপর এক ইরানি হামলায় গুরুতর আহত হন আরও একজন মার্কিন সেনা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর তিনি মারা যান, যা নিহতের সংখ্যা সাতে নিয়ে যায়।

পরে গত ১২ মার্চ ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনায় সহায়তাকারী একটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় আরও ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অন্য একটি বিমানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনার জেরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এটি শত্রু বা নিজেদের কোনো পক্ষের গুলিবর্ষণের কারণে ঘটেনি নিশ্চিত করেছে তারা।

এছাড়া, গত ১ জুলাই আরব সাগরে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে নৌবাহিনীর একজন পাইলট প্রাণ হারান। মার্কিন নৌবাহিনী এই ঘটনা প্রসঙ্গে স্পষ্ট করেছে, হেলিকপ্টারটি শত্রুপক্ষের কোনো আক্রমণের কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ বা ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ শুক্রবার (১৭ জুলাই) জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও এক মার্কিন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জর্ডানে মার্কিন ও তার মিত্র বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত আরও চার মার্কিন সেনাকে জর্ডানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনায় ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরকে (আইআরজিসি) দায়ী করেছে। এ সৈন্য নিহতের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে রাতভর হামলা চালিয়েছে। এ নিয়ে নতুন করে শুরু হওয়া উত্তেজনায় অষ্টম দিনের মতো হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।