সমুদ্রপথে সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রাণহানি ২০২৫ সালে

সমুদ্রপথে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে গত বছর। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর দিয়ে বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে ২০২৫ সালে অন্তত ৯০০ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সংস্থাটির বরাতে এ তথ্য জানায় রয়টার্স।
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবর বালোচ জেনেভায় সাংবাদিকদের জানান, গত বছর প্রায় ৬ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৯০০ জন, অর্থাৎ, প্রতি ৭ জনের মধ্যে ১ জনই সমুদ্রে প্রাণ হারিয়েছেন না নিখোঁজ হয়েছেন। শরণার্থী বা অভিবাসীদের সমুদ্রযাত্রার ক্ষেত্রে এই মৃত্যুহার বিশ্বে সর্বোচ্চ।
চলতি বছরও এই বিপজ্জনক যাত্রার প্রবণতা কমেনি বলে জানাচ্ছে রয়টার্স। বছরের শুরু থেকে গত ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে যাত্রা করেছেন।
মূলত মিয়ানমারের সংঘাত, সহিংসতা এবং বাংলাদেশের জনাকীর্ণ শরণার্থী শিবিরগুলোর মানবেতর জীবন থেকে বাঁচতেই তারা মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে সমুদ্রে পাড়ি জমাচ্ছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে যাত্রা করা একটি নৌকা বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়ার ফলে অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ হয়েছেন।
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বলেন, ‘বেঁচে থাকার সম্ভাবনা সীমিত জেনেও কেউ তার পরিবারকে এমন ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দিত না, যদি না তাদের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করত।’
বাবর বালোচ জানান, বিশ্বজুড়ে দাতা সংস্থাগুলোর অনুদান কমে যাওয়া এই হতাশার অন্যতম প্রধান কারণ। বর্তমানে বাংলাদেশে থাকা প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর খাদ্য, পানি ও চিকিৎসার জন্য এ বছর ২০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা চেয়েছে জাতিসংঘ। কিন্তু এখন পর্যন্ত চাহিদার মাত্র ৩২ শতাংশ অর্থ সংস্থান হয়েছে।
বর্তমানে পুরো অঞ্চলজুড়ে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং আশ্রয়প্রার্থী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন, যার মধ্যে ১২ লাখই বাংলাদেশে অবস্থান করছে।