ভারতের পর এবার পাকিস্তানে ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’

ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল সাড়া পাওয়ার পর এবার পাকিস্তানে আত্মপ্রকাশ করল ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’ (সিএপি)। প্রায় একই সঙ্গে দুই দেশে এই ধরনের অনলাইন প্রতিবাদের ঝড় বদলে দিচ্ছে মানুষের রাজনৈতিক ধারণা।
অনেকে মতে, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া এখন আছড়ে পড়ছে ইসলামাদে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের পেছনে আসলে দেশ চালাচ্ছে সেনাপ্রধান আসিম মুনির। যা নিয়ে প্রায় বিভক্ত পাকিস্তানি জনগণ। তাই রাজপথে প্রতিবাদের সুযোগ না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন পাকিস্তানি তরুণরা।
নামকরণের গুরুত্ব কী
পৃথিবীতে টিকে থাকার লড়াইয়ে সবচেয়ে শক্ত ও সহনশীর পতঙ্গ হলো তেলাপোকা বা ককরোচ। সহজে এদের নিধন করা যায় না। তেলাপোকা ‘সারভাইভাল ইনস্টিঙ্কট’ বা টিকে থাকার লড়াইকেই হাতিয়ার করে কয়েক দিন আগেই ভারতে তৈরি হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এবার সেই পথে হেঁটেই পাকিস্তানের আত্মপ্রকাশ করল ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’।
উর্দুতে ‘আওয়ামী’ শব্দের অর্থ সাধারণ মানুষ বা জনগণ। ফলে দলের নামের সহজ অর্থ দাঁড়ায়, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। এক ঝলকেই সিএপি-কে রাজনৈতিক দল মনে হলেও, মূলত এটি পুরোটাই সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মিম ও প্যারোডি কনটেন্টের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এই ট্রেন্ড।
অভিন্ন উদ্দেশ্য
পাকিস্তানের ইনস্টাগ্রাম ও এক্স হ্যান্ডেলে এই নতুন আন্দোলনটি রাতারাতি ভাইরাল হয়েছে। মার্কিন সোশ্যাল হ্যান্ডেল এক্স অ্যকাউন্টে দলের মূল বার্তা হিসেবে লেখা হয়েছে, ‘যাদের এই সমাজ ও শাসনব্যবস্থা তেলাপোকা ভেবে অবহেলা করেছে, আমরা সেই সাধারণ মানুষেরই কণ্ঠস্বর।’
কেন এই দল প্রতিষ্ঠা হলো তা নিয়ে মুখ খুলেছেন এর উদ্যোক্তারা। ইনস্টাগ্রামের একটি পোস্টে এই দলের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এটি পাকিস্তানের প্রতিটি শিক্ষার্থী, মধ্যবিত্ত নাগরিক, বেকার স্নাতক, হোস্টেলের বাসিন্দা, ফ্রিল্যান্সার ও নিত্যদিন সিস্টেমের সঙ্গে লড়াই করা ক্লান্ত সাধারণ মানুষের একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম।
ইমরান খান কেন প্রাসঙ্গিক
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দীর্ঘদিন ‘রাজনৈতিক কারণে’ কারাবন্দি। তিনি কারারুদ্ধ হওয়ার পর থেকেই দেশটির শাসনব্যবস্থা সামরিক বাহিনীর হাতে চলে গেছে বলে মনে করা হয়। পাকিস্তানিরাও তাই মনে করেন। দৃশ্যত শেহবাজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী হলেও ‘দেশ চালাচ্ছেন’ পাকিস্তানের সেনাপ্রাধান আসিম মুনির।
বেকারত্ব, লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি, শিক্ষার আকাশচুম্বী ব্যয়, রাজনীতিবিদদের প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও চরম ভিআইপি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভে ফুঁসছেন দেশপির তরুণরা। দেশে তাই গণতন্ত্র ফেরাতে সরব হচ্ছেন তারা। আর এই কারণে বড় আকার নিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই আন্দোলন।
প্রথাগত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’র উত্থান। সিস্টেমের শত অবহেলা ও চাপের মুখেও সাধারণ মানুষ যে তেলাপোকার মতোই টিকে থাকে, সেটাই এই আন্দোলনের মূল প্রতীক।
সিজেপি ও সিএপির মধ্যে পার্থক্য
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকা’ মন্তব্যের জেরে আত্মপ্রকাশ পায় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আত্মপ্রকাশের পর সপ্তাহ না পেরোতেই প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ফলোয়ার যুক্ত হয় সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে। অথচ একই প্ল্যাটফর্মে ভারতের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিজেপির ফলোয়ার সংখ্যা ৮৮ লাখ।
সিজেপি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গঠিনত হয় পাকিস্তানের ককরোচ আওয়ামী পার্টি (সিএপি)। তবে দুই দেশের আন্দোলনের মধ্যে কিছু মৌলিক তফাৎ রয়েছে। এর মধ্যে হলো উৎপত্তির প্রেক্ষাপট ও কাঠামোগত। সিজেপির একটি নির্দিষ্ট ইশতেহার রয়েছে, রয়েছে ওয়েবসাইট ও নেতৃত্ব কাঠামো। শোনা যাচ্ছে, তারা বিহারের উপনির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ভাবছে।
অন্যদিকে ককরোচ আওয়ামী পার্টির এখনও কোনো কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট মিম ও রিলসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সিএপির সোশ্যাল অ্যাকাউন্টগুলোর বায়োতে লেখা হয়েছে, ‘হ্যাঁ, আমরা ভারত থেকে আইডিয়াটা কপি করেছি, কিন্তু তাতে কী? আমাদের উদ্দেশ্য তো একই!’
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
.png)

