logo

যুদ্ধ হেলিকপ্টারে যাবে ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র

যুদ্ধ হেলিকপ্টারে যাবে ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র
ছবি: সংগৃহীত

বহুল আলোচিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজির পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের জাতীয় পরীক্ষক সংস্থা এনটিএ। পুনঃপরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে এই পরীক্ষা। দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হবে বিমানবাহিনীর এমআই-১৭ যুদ্ধ হেলিকপ্টার।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, নিট পরীক্ষার জন্য ১৮টি স্থানে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দিতে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানো হবে যুদ্ধ হেলিকপ্টার। এতদিন প্রশ্নপত্র পাঠানো হতো ট্রেন ও পণ্যবাহী গাড়িতে। ওই পক্রিয়ায় প্রশ্নফাঁসের ঝুঁকি থেকে যাই। এবার প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে বিমানবাহিনী এমআই-১৭ যুদ্ধ হেলিকপ্টার ও অন্যান্য বিমানও ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার।

প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছাতে সামরিক বিমান ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবহনে যেন বিলম্ব না হওয়া, তা নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা। পাশাপাশি সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়ে কর্তৃপক্ষ।

একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নজরদারি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের পর এবার পুনঃপরীক্ষা ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়েছে ভারত সরকার ও পরীক্ষক সংস্থা। গত ২ মে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের তদন্তে সিবিআই এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তদের অনেকেই অধ্যাপক ও পরীক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

এ ঘটনার পর পুনঃপরীক্ষায় কোনো ধরনের জালিয়াতি ঠেকাতে প্রশ্নপত্র তৈরির সঙ্গে জড়িত সবাইকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। প্রশ্নপ্রণেতা, মডারেটর, অনুবাদকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে কার্যত ‘লকডাউন’ অবস্থায় রাখা হচ্ছে। সেখানে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্মার্টওয়াচ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপরও কড়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং বাইরের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ২১ জুন পর্যন্ত তারা এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে থাকবেন। এছাড়া প্রশ্নপত্র তৈরি, অনুবাদ, যাচাই, মুদ্রণ, প্যাকেটজাতকরণ, পরিবহন এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কঠোর নিরাপত্তা ও তদারকি নিশ্চিত করা হবে, যাতে আর কোনো প্রশ্নফাঁস বা অনিয়মের ঘটনা না ঘটে।

সূত্র: এনডিটিভি