logo
Advertisement

বাংলাদেশিদের জন্য শ্রম ভিসা স্থগিত করল এক দেশ

দ্য লাওতিয়ান টাইমস
দ্য লাওতিয়ান টাইমস
বাংলাদেশিদের জন্য শ্রম ভিসা স্থগিত করল এক দেশ
কাতারের একটি নির্মাণস্থলে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকরা। ছবি: এএফপি

বাংলাদেশি নাগারিকদের জন্য নতুন কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট, শ্রমিক আমদানির পরিকল্পনা ও শ্রম প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওস। দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।

চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। একই সময়ে বাংলাদেশিদের জন্য লেবার ভিসা (এলএ-বি২) অনুমোদনও বন্ধ রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য লাওতিয়ান টাইমস।

দেশটির শ্রম মন্ত্রণায় জানিয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে লাওসে প্রবেশ, মানব পাচার ও অনুমোদনহীন শ্রম দালালদের কার্যক্রম ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শ্রমিক নিয়ে গিয়ে তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেই কেন এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দেশনায় স্পষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে দেশটির সরকারের অনুমোদিত বড় অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প, যেগুলোর নির্দিষ্ট চুক্তির সময়সীমা রয়েছে, সেগুলো এই স্থগিতাদেশের আওতামুক্ত থাকবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি, কোম্পানি, নিয়োগকর্তা ও শ্রম পরিচালনাকারীরা স্বাধীনভাবে কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে লাওসে প্রবেশ বা নিয়োগের অনুমতি দিতে পারবেন না। ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশিদের জন্য লেবার ভিসা (এলএ-বি২) অনুমোদনও বন্ধ থাকবে।

নিয়ম ভঙ্গ করলে জরিমানা, বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং ব্যবসার লাইসেন্স বাতিলের মতো শাস্তি হতে পারে। অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশি শ্রমিক আমদানি বা নিয়োগ করলে প্রতি শ্রমিক ও প্রতি লঙ্ঘনের জন্য নিয়োগকর্তাকে ২৫ লাখ লাও কিপ বা ১১০ মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে। অন্য শ্রম ইউনিটে পুনর্বণ্টনের জন্য শ্রমিক আমদানি করলেও একই জরিমানা প্রযোজ্য হবে।

অন্য শ্রম ইউনিটে নিয়োজিত কর্মী ব্যবহার বা গ্রহণ করলে প্রতি কর্মী ও প্রতি লঙ্ঘনের জন্য ২০ লাখ লাও কিপ বা ৮৯ মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে। আর অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত কর্মস্থলের বাইরে গিয়ে কাজ করলে শ্রমিককে প্রতি ঘটনায় ১০ লাখ লাও কিপ বা ৪৪ মার্কিন ডলার জরিমানা এবং ৩০ দিনের মধ্যে বহিষ্কার করা হবে।

বহিষ্কার ও যাতায়াতের সব খরচ বহন করতে হবে নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট লঙ্ঘনকারীকে। একই ধরনের অপরাধ পুনরায় করলে জরিমানার পরিমাণ তিন গুণ হবে এবং আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

লাওসের এই সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়নি। দেশটিতে বর্তমানে কত বাংলাদেশি শ্রমিক আছেন বা কোন কোন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সেই তথ্যও দেওয়া হয়নি।

ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ থেকে লাওসে শ্রম অভিবাসন মূলত নির্মাণ ও উৎপাদন খাতকেন্দ্রিক। লাওসের শ্রম কর্তৃপক্ষ চলতি বছর দেশটিতে অনিবন্ধিত বিদেশি শ্রমিকদের নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল।