logo

ক্ষমতা হারাতে যাওয়া নেতানিয়াহুর জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের আহ্বান

টাইমস অব ইসরায়েল
টাইমস অব ইসরায়েল
ক্ষমতা হারাতে যাওয়া নেতানিয়াহুর জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের আহ্বান
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: অ্যাক্সিওস

ইসরায়েলে সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন। এমন সময় ক্ষমতা হারাতে যাওয়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোটকে জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

নেতানিয়াহু বলেছেন, তার যে জোট বর্তমানে সরকারে আছে তাদের সঙ্গে নিয়ে যেন ঐক্য সরকার গঠন করা হয়। এ ছাড়া তিনি আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট না করতে আইজেনকোটকে সতর্কতা দেন।

নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে গাজায় যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু বলেন, আরবরা সন্ত্রাসবাদের মদদ দেয় এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে যদি সরকার গঠন করা হয় তাহলে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকবে না।

এর আগে গতকাল শনিবার রাতে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এক বিবৃতি দেন। তাতে জানান, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে আইজেনকোট সরকার গঠনের জন্য মনোনীত করেছেন তিনি। গত ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট হারজগ।

রোববার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র।

এর কিছুক্ষণ আগে নেতানিয়াহু ঐক্য সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে এই ভিডিও বার্তা দেন।

শর্ত দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, যদি ঐক্য সরকার গঠন করা হয়, তাহলে তার জোটের সব দলকে সেখানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ বাজায়েল স্মোরিচ ও ইতামার বেন গিভিরের মতো অতি উগ্রপন্থিদের আবারও সরকারে জায়গা দিতে হবে। তবে তিনি তার ভিডিওতে উল্লেখ করেননি ঐক্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন।

দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর সুর পরিবর্তন হচ্ছে। নির্বাচনের পর পর তিনি ডানপন্থি সরকার গঠনের কথা বলেছিলেন। এরপর তিনি বৃহৎ জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলেন। এখন তিনি জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

নেতানিয়াহু অভিযোগ করে বলেছেন, কেউ একজন তাড়াহুড়া করে সরকার গঠন করতে চাইছেন। এমনকি আগামী সপ্তাহের মধ্যে, সন্ত্রাসবাদের সমর্থকদের (আরবদের) সঙ্গে নিয়ে। তিনি যাদের সঙ্গে সরকার গঠনের চেষ্টা করছেন তারা ইসরায়েলের পতন ঘটাতে চায়। যে সরকার হামাসের সমর্থকদের নিয়ে হবে তারা হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করবে না। গাজা ও লেবাননে থাকা ইসরায়েলি সেনাদের নিরাপত্তা রক্ষা করবে না।

আরবদের নিয়ে যদি কোনো সরকার গঠন করা হয়, তাহলে ইসরায়েলে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে অভিযোগ করে নেতানিয়াহু বলেন, ইউরোপে ইসলামপন্থিরা যে দাঙ্গা করছেন ইসরায়েলে তা ঘটবে যদি আরবদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনা করা হয়। এমন সরকার নিয়ে ইসরায়েলের অস্তিত্ব রক্ষা হবে না।

জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, আমি একটি ঐক্য সরকার গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি যেখানে আমার ডানপন্থি জোটের সব দল অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

যদিও গাদি আইজেনকোট আগে থেকেই বলে আসছেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জোট করবেন না।

নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জন্য প্রেসিডেন্টের সঙ্গে চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৬৭ জন আইনপ্রণেতা আইজেনকোটের পক্ষে সমর্থন জানান। তাদের মধ্যে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সদস্যরাও রয়েছেন। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন জানান ৪৬ জন আইনপ্রণেতা।

সরকার গঠনের জন্য আইজেনকোট ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে তার। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে অন্তত ৬১টির সমর্থন নিয়ে জোট সরকার গঠন করতে হবে তাকে।

গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন চার দলের জোট ৪৮টি আসন পায়। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট পায় ৫৩টি আসন। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন কোনোটিই পায়নি।