জেট ফুয়েল সংকটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট কমাচ্ছে ভিয়েতনাম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জেট ফুয়েলের সংকট দেখা দেওয়ায় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভিয়েতনাম। দেশটির জাতীয় বিমান সংস্থা ভিয়েতনাম এয়ারলাইনসের বরাতে সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জানিয়েছে, আগামী এপ্রিল থেকে সপ্তাহে অন্তত ২৩টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জেট এ-১ জ্বালানির সীমিত সরবরাহ স্থানীয় এয়ারলাইনগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এ পরিস্থিতিতে ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভিয়েতনাম। তবে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ রুট ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুটে অতিরিক্ত জ্বালানি চার্জ আরোপের বিষয়েও কাজ চলছে, যা এপ্রিল থেকেই কার্যকর হতে পারে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কাতার, কুয়েত ও জাপানের কাছে সহায়তা চেয়েছে ভিয়েতনাম। পাশাপাশি সোমবার রাশিয়ার সঙ্গে তেল ও গ্যাস উৎপাদন সংক্রান্ত একটি চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে দেশটি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল তিন রাজ্যে শতাধিক পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে বলে খবর দিয়েছে গার্ডিয়ান।
মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে ৫১টি স্টেশনে পেট্রোল ও ১৬৪টি স্টেশনে ডিজেল শেষ হয়েছে। ভিক্টোরিয়ায় ১০১টি স্টেশনে পেট্রোল ও ৮৩টি স্টেশনে ডিজেল শেষ হয়ে গেছে। কুইন্সল্যান্ডেও ৩২টি স্টেশনে সাধারণ আনলেড পেট্রোল এবং ৪৭টি স্টেশনে ডিজেল শেষ হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো কোনো এলাকায় জ্বালানির জোগানের তুলনায় চাহিদা ৪০০ শতাংশ।
এ ছাড়া নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে দুই পক্ষ গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বাড়াবে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করবে এবং অনলাইন উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সহযোগিতা জোরদার করবে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।
দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করে আসছে ইইউ। এরই মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে বেইজিং। এই প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চুক্তি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ইউরোপের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়।
তবে নতুন এ চুক্তি অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কোনো সহযোগিতা করবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়নি সংবাদমাধ্যমে।