logo

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াল মুসলিম বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াল মুসলিম বিশ্ব

ইসরায়েলের দখলদারি ও আরব ভূমি দখলের বিষয়ে সাফাই গেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে মুসলিম বিশ্ব। সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন, লেবানন, সিরিয়া, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), আরব লীগ এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর সচিবালয় ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এমন বিবৃতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে, অধিকৃত পশ্চিম তীরসহ আরব রাষ্ট্রগুলোর অন্তর্গত অঞ্চলগুলোর ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ কখনও মেনে নেওয়া হবে না। এটা অযৌক্তিক এবং উসকানিমূলক বক্তব্য। ইসরায়েলের এ দখলদারি অগ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি।

এর আগে ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করলেও তা ‘সমস্যা নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইকেল হাকাবি। তিনি দাবি করেন, এই ভূখণ্ডের ওপর ইহুদি জনগণের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় অধিকার রয়েছে।

আনাদোলু এজেন্সি ও আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, টুকার কার্লসনের সঙ্গে শুক্রবার সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে হাকাবিকে ইসরায়েলের ভৌগোলিক সীমানা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।

কার্লসন বলেন, বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী ইসরায়েলের প্রতিশ্রুত ভূমি ইরাকের ইউফ্রেটিস নদী থেকে মিসরের নীল নদ পর্যন্ত বিস্তৃত। যার মধ্যে বর্তমান লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান এবং সৌদি আরবের অংশও পড়ে।

জবাবে হাকাবি বলেন, ‘ইসরায়েল এসব এলাকা দখলে নিলে আমার সমস্যা নেই।’ পরে কার্লসন বিস্ময় প্রকাশ করে জানতে চান, তিনি কি সত্যিই ইসরায়েলের পুরো অঞ্চল দখলকে সমর্থন করবেন? উত্তরে রাষ্ট্রদূত হাকাবি বলেন, ‘তারা দখল করতে চায় না। তারা এমন দাবিও করেনি।’

ইসরায়েলে নিযুক্ত এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিজেকে খ্রিষ্টান জায়োনিস্ট ও ইসরায়েলের রক্ষক বলে দাবি করেন। যদিও হাকাবি পরে বলেন, মন্তব্যটি কিছুটা অতিরঞ্জিত ছিল। তবুও তিনি তার ধর্মীয় ব্যাখ্যার ভিত্তিতে ইসরায়েলি সম্প্রসারণবাদের দরজা খোলা রেখেছিলেন।

এরপরই আরব ও মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো এ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায় বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে গালফ নিউজ। এসব মুসলিম দেশ ও সংস্থা বলছে, এই ধরনের বিপজ্জনক বক্তব্য স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এটা আন্তর্জাতিক আইনের নীতি ও জাতিসংঘের সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এই অঞ্চলের নিরাপত্তা আর স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি।

সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এ বিতর্কিত বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পের উত্থাপিত দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, ট্রাম্প চান গাজা সংঘাতের অবসান হোক। এ কারণে তিনি ব্যাপক পরিকল্পনা করছেন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা অঞ্চল পুনর্নির্মাণের জন্য শান্তি বোর্ড স্থাপন করেছেন। এর ফলে ফিলিস্তিনি জনগণের নিজস্ব স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। এ কারণে  মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কিন্তু, অন্য দেশের ভূমি দখলকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে যে সব কথা বলা হচ্ছে, তা শান্তি বিনষ্ট করবে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়বে।

মুসলিম বিশ্বের এ দেশগুলো জানিয়েছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বা অন্য কোনো অধিকৃত আরব ভূমির ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। এ ছাড়া পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করা বা গাজা উপত্যকা থেকে এ ভূখণ্ডকে আলাদা করার যে কোনো প্রচেষ্টাকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতি এবং বেআইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার ফলে এই অঞ্চলে কেবল সহিংসতা ও সংঘাতই বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে শান্তি স্থাপন করা সম্ভব হবে না। এ কারণে এসব উসকানিমূলক মন্তব্যের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানাচ্ছি।