প্রতিবেশী দেশে ভয়াবহ হামলা চালাল ইরান

ইরাকের উত্তরাঞ্চলে ইরান সীমান্তবর্তী এলাকায় কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ডিপিএ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর আল আরাবিয়ার।
ইরানের বার্তা সংস্থা মেহর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাকের বালিসান এলাকায় ইরানবিরোধী কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী কোমালার সদর দপ্তর লক্ষ্য করে শনিবার রাতে ড্রোন অভিযান চালায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) স্থলবাহিনী।
তাদের দাবি, আগাম সতর্কতামূলক সামরিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইরাকের এই আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ইরানি কুর্দি যোদ্ধাদের একাধিক শিবির ও সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এসব স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে আসছে ইরান।
অভিযোগ রয়েছে, ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। গত ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এসব গোষ্ঠীকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করেছিল ওয়াশিংটন। তবে এমন পদক্ষেপের পরিণতি উল্টো হতে পারে, এই আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ট্রাম্প প্রশাসন।
কুর্দিরা মূলত ইরাক, ইরান, সিরিয়া ও তুরস্কে বসবাসকারী একটি নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। বিশ্বজুড়ে তাদের জনসংখ্যা প্রায় তিন কোটি। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিজস্ব স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন ও সংগ্রাম চালিয়ে আসছে তারা। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের সরকারের পতনের পর থেকে ইরাকের উত্তরাঞ্চলে আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পরিচালনা করে আসছে কুর্দিরা।



