ইরান যুদ্ধের প্রভাবে রুশ তেলে ঝুঁকছে এশিয়া

ইরান ঘিরে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় এশিয়ার একাধিক দেশ রাশিয়ার তেলের দিকে ঝুঁকছে। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কাসহ কয়েকটি দেশ এখন রুশ তেল কেনার জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিভিন্ন সূত্র ও রাশিয়ার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার জ্বালানি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় মস্কোর তেল রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই এখন ভারত ও চীনের মতো বড় বাজারে যাচ্ছে। পাশাপাশি তুরস্কও গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা হিসেবে রয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নতুন করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ইরান-সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে উচ্চ তেলের দাম ও যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগে রাশিয়া বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশই আসে তেল ও গ্যাস বিক্রি থেকে।
তবে রাশিয়ার সক্ষমতাও সীমাহীন নয়। ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে দেশটির তেল অবকাঠামোর একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত প্রভাবিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিকল্প বাজারে চাহিদা দ্রুত বাড়ছে এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে সরবরাহ দিয়ে এই বাড়তি চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে, ফিলিপাইন পাঁচ বছর পর আবার রাশিয়া থেকে তেল আমদানি শুরু করেছে। এলএসইজির তথ্য অনুযায়ী, দেশটি প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেলের দুটি ইএসপিও ব্লেন্ড কার্গো কিনেছে।
অন্যদিকে থাইল্যান্ড সম্ভাব্য আমদানি নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে, আর শ্রীলঙ্কার গণমাধ্যমেও একই ধরনের আলোচনার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন সম্প্রতি মস্কো সফর করে রুশ জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে দেশটিতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে এশিয়ার জ্বালানি বাজারে রাশিয়ার প্রভাব আরও বাড়তে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।