ইরান ইস্যুতে হতাশায় ভুগছেন ট্রাম্প

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি না করলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার একাধিক হুমকি দিয়ে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি সামরিক হামলার বিকল্প নিয়ে ভাবছেন। তবে ইরান ইস্যুতে ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়েছেন ট্রাম্প। ওয়াশিংটন হামলা চালাবে কি না এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সিবিএস নিউজ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই সূত্র দাবি করেছে, ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্য নিয়ে যে ধরনের একক অভিযানের বিষয়ে ভাবা হয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমনটা সহজ নয় বলে ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে।
তাকে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর কোনো হামলা একবারে সফল হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং সীমিত হামলা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে।
অ্যাক্সিওস প্রথম ট্রাম্পের এই হতাশার খবর প্রকাশ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর বিরুদ্ধে এমন খবর অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘কেইন যুদ্ধ চান না ঠিকই, কিন্তু যদি সামরিকভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে তিনি মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র সহজেই জিততে পারবে।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তিনি (কেইন) কখনোই ইরানে হামলা না করার কথা বলেননি, এমনকি সীমিত হামলার বিরুদ্ধেও কিছু বলেননি। কেইন শুধু জানেন কীভাবে জিততে হয়, আর তাকে দায়িত্ব দিলে তিনিই নেতৃত্ব দেবেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেছেন, সামরিক পরিকল্পনাকারীরা নিরপেক্ষ পরামর্শই দিচ্ছেন। হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে সংবামাধ্যমটিকে ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
ট্রাম্পের অস্থিরতার মূল কারণ হলো কূটনৈতিক আলোচনায় ইরানকে ফিরিয়ে আনতে একটি শক্ত বার্তা দেওয়ার ইচ্ছা। তিনি উপদেষ্টাদের এমন বিকল্প খুঁজতে বলেছেন, যা ওয়াশিংটনের শাস্তিমূলক হামলার মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করবে। তবে সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, এমন ফলাফল পাওয়াটা অনিশ্চিত।
ব্যক্তিগত বৈঠকে জেনারেল কেইন ট্রাম্পকে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে টানা সামরিক অভিযান বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে। ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর হামলা চালাতে পারে। এতে দীর্ঘ যুদ্ধ শুরু হতে পারে, যার জন্য আরও সেনা ও সম্পদের প্রয়োজন হবে।
সম্প্রতি বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ফক্স নিউজে লারা ট্রাম্পকে বলেন, ‘ট্রাম্প অবাক হচ্ছেন, এত চাপের পরও কেন ইরান আত্মসমর্পণ করছে না।’ উইটকফ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নৌবাহিনী ও সামরিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ইরান এখনো আলোচনায় এসে শর্ত মানতে রাজি হচ্ছে না।’
শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ইরানের কাছাকাছি অবস্থান নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি পারস্য উপসাগরে থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের সঙ্গে অংশ নেবে। এ ছাড়া সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব মোতায়েন প্রতিরক্ষামূলক ও উত্তেজনা ঠেকানোর জন্য। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি এমন যে, ইরানে হামলা হলে পাল্টা হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা, কিংবা ইরাক ও সিরিয়ায় মিত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে আক্রমণ হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের ভেতরে আলোচনায় রাজনৈতিক লক্ষ্য আর সামরিক বাস্তবতার মধ্যে টানাপোড়েন স্পষ্ট। ট্রাম্প শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে আলোচনায় সুবিধা নিতে চান। কিন্তু সামরিক কর্মকর্তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, যুদ্ধ খুব কমই পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে এবং সীমিত হামলাও অপ্রত্যাশিত ফল বয়ে আনতে পারে।