logo

তেলের দামে অস্থিরতা অব্যাহত

তেলের দামে অস্থিরতা অব্যাহত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা বজায় রয়েছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারির পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওজ।

রোববার বাজার খোলার পর বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রথমে ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলারের কাছাকাছি উঠলেও পরে কিছুটা কমে প্রায় ১১১ ডলারের আশপাশে অবস্থান করে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দামও ৯৯ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান দামের এই অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

শনিবার ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, তা না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে সামরিক হামলা চালানো হতে পারে।

তবে এর আগেই তিনি যুদ্ধ “ধীরে কমিয়ে আনার” সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছিলেন, যা পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।

জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। তবে সাবেক মার্কিন জ্বালানি সচিব ড্যান ব্রুইলেটের মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলে দাম দ্রুতই কমে আসতে পারে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে একাধিক দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে প্রায় ২২টি দেশ এই উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন, উৎপাদন ও কৃষি খাতেও ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি এবং উচ্চ সুদের হার একসঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

সূত্র: অ্যাক্সিওজ নিউজ