logo

মিয়ানমারে শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে, জয়ের পথে জান্তা সমর্থিত দল

মিয়ানমারে শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে, জয়ের পথে জান্তা সমর্থিত দল

চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে মিয়ানমারে নির্বাচনের তৃতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয়সহ ৬০টি শহরে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। জান্তা সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পথে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

সমালোচকরা বলছেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে দেশটির সামরিক বাহিনী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর যে সামরিক শাসন চলছে, তাকে বৈধতা দিতেই এই ভোটের আয়োজন। ওই অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

অং সান সু চি এখনো কারাগারে বন্দি। তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিনসহ (এনএলডি) একাধিক বিরোধী দল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মাঠ সামরিক-সমর্থিত ইউএসডিপি’র দিকে ঝুঁকে গেছে। জরিপে দেখা গেছে, ইউএসডিপিই ব্যাপক ব্যাবধানে এগিয়ে রয়েছে।

 

রয়টার্স জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর ও ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দুই রাউন্ডের ভোটগ্রহণে জান্তাপন্থি ইউএসডিপি নিম্নকক্ষের ২০৯টি আসনের মধ্যে ১৯৩টি এবং উচ্চকক্ষের ৭৮টি আসনের মধ্যে ৫২টি আসন জিতেছে। যা শতকরা হিসেবে প্রায় ৮৭ শতাংশ। প্রতিটি রাউন্ডে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৫ শতাংশ, যা ২০২০ ও ২০১৫ সালের নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কম।

বিতর্কিত নির্বাচন

২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় আসার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না। জাতিসংঘ, মানবাধিকার গোষ্ঠী ও যুক্তরাজ্য এই নির্বাচনকে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার প্রতারণামূলক প্রচেষ্টা বলে নিন্দা জানিয়েছে।

গত বছর ১১ সদস্যের দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের সভাপতিত্বকারী মালয়েশিয়া জানিয়েছে, তাদের জোট বিতর্কিত এই নির্বাচনকে সমর্থন করবে না।

তবে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং রোববার নির্বাচন নিয়ে বিদেশি সমালোচনা উড়িয়ে দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিল কিনা, তা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। জনগণের ভোটই আমাদের স্বীকৃতি।’

এ ছাড়াও দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি দাবি করেন যে, অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচন ‘নিরপেক্ষ হচ্ছে’ এবং ‘ভোটাররা নির্বিঘ্নে অংশ নিচ্ছেন’।

কম ভোটার উপস্থিতি সত্ত্বেও জান্তা সরকার এবারের নির্বাচনকে ‘সফল’ বলে দাবি করলেও দেশটির বৃহত্তম শহরগুলোর বাসিন্দারা রয়টার্সকে ভয়ের পরিবেশের কথা জানিয়েছেন। অনেকেই সম্ভাব্য গ্রেপ্তার ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ভোট দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে মনে করছেন।

ইয়াঙ্গুনের এক বাসিন্দা বলেন, সেনা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবার যেসব এলাকায় বাস করেন, সেসব এলাকার কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির সংখ্যা বেশি ছিল। তবে অন্যান্য এলাকায় খুব কম ভোটারই ভোট দিয়েছেন।

এদিকে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচন সুরক্ষা আইনে জান্তা সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়ার সমালোচনা ও বাধা দেওয়ার জন্য ৪০০ জনেরও বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে।