ট্রাম্পের বহরে কাতারের দেওয়া বিলাসবহুল বিমান, যেসব সুবিধা আছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিমান বহরে যুক্ত হয়েছে কাতার রাজপরিবারের উপহার দেওয়া বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল ‘এয়ারফোর্স ওয়ান ৭৪৭’ জেট বিমান। শুক্রবার (১৯ জুন) ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন সাজে সজ্জিত বিমানটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যের বরাতে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন গত বছরের জুলাই মাসে কাতারের রাজপরিবারের কাছ থেকে ৪০ কোটি ডলার মূল্যের এই জেট বিমানটি উপহার হিসেবে গ্রহণ করে। এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য পরিমার্জন নিশ্চিতে গত সেপ্টেম্বর থেকে রূপান্তর প্রক্রিয়া শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিমানবাহিনী।

বোয়িং কোম্পানির তৈরি করতে থাকা নতুন দুটি বিমান ২০২৮ সালের মধ্যে প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ জেট বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রধান বাহন ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ হিসেবে কাজ করবে।
বিলাসবহুল বিমানটির বিশেষ সুবিধা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই বিমানে বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে।
১৯৯০ সাল থেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের বিমান হিসেবে ব্যবহৃত বোয়িং ভিসি-২৫এ বিমানের তুলনায় কাতারের উপহার দেওয়া এই জেটের আকার প্রায় দ্বিগুণ। প্রায় ১৪ বছরের পুরোনো এই বিশেষ জেট বিমানটির নির্মাণ মান সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘বিমানটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি যখন তৈরি করা হয়েছিল, তখন এমন এক স্তরে তৈরি করা হয়েছিল যা সম্ভবত আর কখনোই দেখা যাবে না।’
বিমানটির অন্যতম প্রযুক্তিগত সুবিধা হলো, এটি আগের যেকোনো এয়ারফোর্স ওয়ানের চেয়ে দ্রুত এবং অনেক বেশি দূরত্বে উড়তে পারে। জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘এটি আরও দূরে ওড়ে, প্রতি কয়েক ঘণ্টা পর পর জ্বালানির জন্য থামতে হয় না। জ্বালানির জন্য হয়তো আপনাদের কখনোই থামতে হবে না, তারা এটাকে আনলিমিটেড বা অসীম বলে। এটি অসীমের বেশ কাছাকাছি।’

দীর্ঘদিনের পুরোনো হলেও এই বিমানের ওড়ার সময়কাল বা ফ্লাইট টাইম ৮০০ ঘণ্টা, যা বর্তমান সময়ের অত্যাধুনিক নতুন বিমানের সমান।
বিমানটির লেজের পাখায় (টেইল ফিন) আঁকা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকায় একটি নতুন ঢেউ খেলানো নকশা দেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে সোজা ছোট নুডলসের মতো দাগ দেওয়া থাকত (যা ট্রাম্প পছন্দ করতেন না), সেখানে এবার গর্বের সঙ্গে ঢেউ খেলানো পতাকা যুক্ত করা হয়েছে।
উপহার বিতর্ক ও বিমানের ভবিষ্যৎ মালিকানা
কাতার রাজপরিবারের দেওয়া ৪০ কোটি ডলারের এই উপহারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু আইনপ্রণেতা নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেন। এবিসি নিউজ জানায়, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কিছু দিন আগে পর্যন্ত এটি নতুন ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এরপর প্রস্তাবিত ব্যবস্থা অনুযায়ী বিমানটির মালিকানা সরাসরি ‘ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি ফাউন্ডেশনের’ কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বর্তমানে আমেরিকার এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত প্রধান দুটি ৭৪৭ বিমানের মধ্যে একটি রক্ষণাবেক্ষণের কাজে রয়েছে। সচল থাকা বাকি বিমানটির পাশাপাশি কাতারের দেওয়া এই নতুন জেটটি ব্যবহার করা হবে।
ট্রাম্প জানান, গত সপ্তাহে ইউরোপে জি৭ সম্মেলনে যাওয়ার জন্য তিনি পুরোনো বিমানটি শেষবারের মতো ব্যবহার করেছেন। ইতিহাসের অংশ এই পুরোনো বিমানগুলোকে কিছুটা
মেরামত করে জাদুঘরে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা জানান তিনি।
নতুন বোয়িং বিমানগুলো পেতে দেরি হওয়ায় এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, যার কারণে ট্রাম্প নিজে কাতারের আমিরের কাছে তাদের বর্তমান পুরোনো বিমানগুলোর বিকল্প হিসেবে বোয়িং-৭৪৭ বিমানটি কিছু সময়ের জন্য ব্যবহারের অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, আমরা এটি কিছু সময়ের জন্য ব্যবহার করতে চাই কারণ আমাদের বিমানগুলো বেশ পুরোনো হয়ে গেছে।’
বিমানটি দেশের আভিজাত্যের সঠিক প্রতিনিধিত্ব করে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘এখন আমরা যখন লন্ডনে, জার্মানিতে এবং বিভিন্ন জায়গার বিমানবন্দরে অবতরণ করব, তখন কেউ এটিকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে না। কেউ এর কাছাকাছিও আসতে পারবে না।’

