মধ্যপ্রাচ্যের ম্যাপ দেখিয়ে নেতানিয়াহু বললেন, ‘আমরা তাদের শ্বাসরোধ করেছি’

ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ ইসরায়েলের শ্বাসরোধের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ঠিক উল্টো। কারণ, বর্তমানে ইসরায়েলই এসব দেশের শ্বাসরোধ করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
হিব্রুভাষায় দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইরান আমাদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিল। এখন তারা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে লড়াই করছে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এখনও শেষ হয়নি। আমরা এখনও তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। এখনও আরও অনেক কিছু করার আছে। তবে এটা স্পষ্ট বলা যেতে পারে যে, এখন পর্যন্ত যা অর্জন করেছি, তা ঐতিহাসিক।
সামনে থাকা স্ক্রিনে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র দেখিয়ে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, এই অঞ্চলের ছয়টি দেশ আমাদের শ্বাসরোধ করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই খায়েশ তাদের অপূর্ণ রয়ে গেছে। পরিবর্তে আমরা তাদের শ্বাসরোধ করেছি। এখনও আমাদের আরও অনেক কাজ বাকি আছে।
তিনি বলেন, ইরানের ভয়ের দেয়াল ভেঙে আমরাই প্রথম আঘাত হেনেছিলাম। আমার সেই উত্তেজনা, সেই গর্বের কথা মনে আছে। নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী যুদ্ধবিরতির জন্য কাকুতি-মিনতি করছে; সেখানকার নেতৃত্বের মধ্যে অন্তঃকোন্দল অব্যাহত। তাদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার আছে, সেখানকার মজুতকৃত অস্ত্রশস্ত্রও ধীরে ধীরে কমে আসছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে ১৯৭৯ সালের পর থকে সর্বনিম্ন পর্যায়ের দুর্বল করে দেওয়া। আমরা যেসব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছি তার মধ্যে রয়েছ ইস্পাত শিল্প, গ্যাসের উৎপাদন, জ্বালানি, সেতু ও রেলপথ।
কট্টরপন্থি এই সরকারপ্রধান বলেন, ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ ও ‘রোয়ারিং লায়ন’ না থাকলে ইরানের কাছে এতদিনে পারমাণবিক বোমা থাকতো; আমরা তা প্রতিরোধ করেছি। এইবারের ‘অপারেশন রাইজিং লায়নে’র আগে আমার কাছে নির্ভুল রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য এসেছিল; আমরা ১২ জন পারমাণবিক বিজ্ঞানীকে হত্যা করেছি এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছি।
তিনি দাবি করেন, এরপর আলী খামেনির ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পুনরায় চালু করার উদ্যোগ ও গোপনে পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য আমার কাছে পৌঁছায়। ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’-এ আমরা আটজন পারমাণবিক বিজ্ঞানীকে হত্যা করেছি এবং বর্তমানে ইরানের কোনো সক্রিয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নেই।
মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী ইসরায়েল
নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইসরায়েল দ্রুত মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, অন্যান্য অনেক দেশ আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে; শক্তি নিয়ে আসছে। ভূখণ্ডে ছোট হলেও অদম্য মনোবল ও সংকল্পে ইসরায়েল সবচেয়ে শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তি এবং এমনকি বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, আমাদের পাইলট ও বিমানকর্মীদের কল্যাণে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আমাদের এখনও আরও অনেক কিছু করার আছে। আমাদের শক্তির ফলস্বরূপ, গত মাসে লেবানন সরাসরি আলোচনার জন্য আমার কাছে এসেছিল, যা আগে কখনও ঘটেনি। আমি হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ ও একটি প্রকৃত শান্তি চুক্তির শর্তে তাতে অনুমোদন দিয়েছি।
সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি, জেরুজালেম পোস্ট