logo

‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের দলীয় কার্যালয়

‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের দলীয় কার্যালয়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (বামে) দলীয় কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। অভিষেক তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদক। তার দলীয় কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘ভারত মাতা কী জয়’ স্লোগান দেয় ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতাকর্মীরা।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকে তিনটি বুলডোজার দিয়ে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার আমতলা এলাকায় অবস্থিত ওই কার্যালয়ে ভাঙচুরের কাজ শুরু করা হয়। জেলা প্রশসানের দাবি, পাঁচতলা কার্যালয়টি সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের নথি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল।

প্রশাসন জানিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় কার্যালয়টি যে জমির ওপর নির্মিত হয়েছে, সেই জমি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ নামে একটি সংস্থার নামে কেনা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট নথিতে অভিষেকের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। তবে এই নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান, নির্মাণের বৈধ কাগজপত্র এবং অন্যান্য নথি জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের এমপি অভিষেককে গত ৩০ জুন প্রথম নোটিশ পাঠানো হয়। পরে ৭ জুলাই দ্বিতীয় নোটিশও দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১৫ জুলাই দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জেলা প্রশাসনের দপ্তরে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় নথি পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো নোটিশেরই উত্তর দেওয়া হয়নি এবং নির্ধারিত দিনেও হাজিরা দেওয়া হয়নি। পরপর একাধিক নোটিশ পাঠানো হলেও তার কোনও জবাব না পাওয়ায় প্রশাসন কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটছে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা প্রশাসক, এসডিও ও বিডিওর সমন্বিত মতে আমতলার ওই ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে এ বিষয়ে অভিষেক বা তার দলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিন তৃণমূল নেতার কার্যালয় ভাঙচুরের সময় ঘটনাস্থল ভিড় করেন ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতাকর্মীরা। বুলডোজার দিয়ে ভবনটি ভাঙার সময় তারা ‘ভারত মাতা কী জয়’, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে থাকেন। যদিও এ সময় উল্লেখযোগ্য কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি।

তবে আগে থেকেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রস্তুত ছিল রাজ্য সরকার। এ জন্য অভিষেকের দলীয় কার্যালয়ের সামনে মোতায়েন করা হয় বিপুল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এ ছাড়াও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও জেলা প্রশসানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক বন্দোপাধ্যায় মমতার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ। ডায়মন্ড হারবারের কোনো সভা হলে এই কার্যালয়ে তা করা হতো।