মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ইরানে একজনের মৃত্যুদণ্ড

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ থাকা, গুপ্তচরবৃত্তির এবং ইরানের সরকারবিরোধী একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বিচার বিভাগীয় সংবাদমাধ্যম মিজান এ তথ্য জানায়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আলজাজিরার খবরে জানানো হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম সুলতান আলী শিরজাদি ফখর। ইরানের বিচার বিভাগীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ফখর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠী মুজাহিদিন-ই-খালকের সদস্য ছিলেন এবং বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ফখর ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। মূলত রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাকে সহযোগিতা করার দায়ে তাকে এই সর্বোচ্চ দণ্ড দেওয়া হলো।
এদিকে চলমান যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে ইরান। তবে এর জন্য পূর্বশর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। এ ছাড়া বর্তমানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধিকে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি বলেন, ইরান থেকে আসা বার্তাগুলো এখনো মিশ্র—কখনো ইতিবাচক, আবার কখনো নেতিবাচক। তবে তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার করলে আলোচনায় বসবে ইরানি প্রতিনিধিরা।
বর্তমান এই পরিস্থিতিকে তিনটি প্রধান বিষয়ের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। ১. অস্পষ্টতা: আলোচনার সময়সীমা শেষ হয়ে এলেও বর্তমানে এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এটি স্বস্তির খবর হলেও দুপক্ষের মধ্যে পুনরায় সংঘাতের সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি নাকচ করে দেওয়া যাচ্ছে না।
২. ভঙ্গুরতা: বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। এখানে যে কোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এই মুহূর্তে একমাত্র নিশ্চিত বিষয়টি হলো ‘অনিশ্চয়তা’।
৩. জটিলতা: যদিও যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা চলছে, কিন্তু এর আড়ালে অনেকগুলো অমীমাংসিত ও কঠিন ইস্যু রয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ, পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ ফেরত, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং আঞ্চলিক সম্পর্কের মতো বিষয়গুলোতে দুপক্ষের অবস্থান ভিন্ন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দুই দেশের সম্পর্ক এখন আর কেবল অবিশ্বাসের পর্যায়ে নেই। এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো ধরনের সমঝোতা বা ঘনিষ্ঠতার প্রচেষ্টাকে তেহরান এখন চরম সন্দেহের চোখে দেখছে।