পাকিস্তানে তুর্কি সামরিক বিমানের তৎপরতা, উদ্বেগে ভারত

পাকিস্তানে তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানের কয়েকটি ফ্লাইট অবতরণ নিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ১৯ থেকে ২১ আগস্ট মাত্র ৬০ ঘণ্টায় তুরস্কের একাধিক সামরিক পরিবহন বিমান পাকিস্তানের বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে যাতায়াত করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তুরস্কের সি-১৩০ হারকিউলিস ও এ-৪০০এম পরিবহন বিমান পাকিস্তানের নূর খান, মাসরুর ও মুরিদ বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। এর মধ্যে ‘টিইউএএফ৫২৬’ কলসাইনের একটি বিমানও ছিল।
তুরস্কের সামরিক বিমানগুলোর এই তৎপরতার পর প্রতিরক্ষা মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে, এসব বিমানে পাকিস্তানের জন্য সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে কি না। বিশেষ করে ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
প্রতিরক্ষা মহলের একটি অংশের ধারণা, তুরস্কের তৈরি বিভিন্ন মানববিহীন আকাশযান ও ড্রোন ব্যবস্থা পাকিস্তানে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে বায়কারের নতুন প্রজন্মের কামিকাজে ড্রোন এবং আসিসগার্ডের ড্রোন ব্যবস্থার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব সরঞ্জাম ওই বিমানগুলোতে পরিবহন করা হয়েছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
তুরস্কের সামরিক বিমানগুলোর এই তৎপরতা এমন সময় দেখা গেল, যখন গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরব মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে দেশ তিনটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি কাঠামোর মধ্যে এসেছে।
তবে সাম্প্রতিক সামরিক পরিবহন কার্যক্রমের উদ্দেশ্য বা এসব বিমানে কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ছিল, সে বিষয়ে পাকিস্তান বা তুরস্কের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এদিকে ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে প্রশ্ন উঠেছে, পাকিস্তান কি ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য আরেকটি সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে? বিশেষ করে গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের চার দিনের সংঘাতের সময় পাকিস্তানকে চীন ও তুরস্কের সামরিক সহায়তার অভিযোগ ওঠার পর নতুন করে এই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
ওই সময় চীন পাকিস্তানকে পিএল-১৫ আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো উন্নত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তুরস্কের তৈরি বায়রাকতার ড্রোন এবং আসিসগার্ড সংগার ধরনের কামিকাজে ড্রোন ব্যবহারের কথাও উঠে আসে। পাশাপাশি পাকিস্তানকে যুদ্ধক্ষেত্রের তাৎক্ষণিক তথ্য ও কৌশলগত সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও ছিল।
চার দিনের ওই সংঘাতে ভারতীয় বাহিনী বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সমন্বিত কমান্ড কাঠামোর মাধ্যমে পাকিস্তানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার দাবি করে। ভারতীয় বিমানবাহিনী রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ এবং দেশীয় আকাশ-এনজি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
ভারতের দাবি অনুযায়ী, ওই সংঘাতে এস-৪০০ ব্যবহার করে পাকিস্তানের একটি সাব-২০০০ এরিয়াইয়ে আকাশ নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বিমানও ভূপাতিত করা হয়। ভারতীয় পক্ষের দাবি, প্রায় ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে বিমানটি ধ্বংস করা হয়েছিল, যা দীর্ঘপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্যতম দূরপাল্লার হামলা।



