ইরানে হামলায় ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা অংশ নিচ্ছে: যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা, ২০০টি যুদ্ধবিমান এবং দুটি বিমানবাহী রণতরি অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপার।
এক ভিডিও বার্তায় কুপার বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে চার দিন ধরে চলা এই অভিযান এক প্রজন্মের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ। অভিযানের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের প্রায় ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে ২ হাজারের বেশি অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে।’
সেন্টকম প্রধানের দাবি, ইরান পাল্টা হিসেবে ৫০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজারের বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। পাল্টা হামলা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর আঘাত করার সক্ষমতা ইরানের ক্রমশ কমে আসছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানের নৌবাহিনী সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করছি। এখন পর্যন্ত ১৭টি ইরানি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে।’
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, অভিযানের সময় কুয়েতে একটি ট্যাকটিক্যাল অপারেশনস সেন্টারে ইরানি হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বহু শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
জবাবে ইসরায়েলে ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। খামেনিকে হত্যার পর রোববার থেকে হামলার তীব্রতা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে তেহরান। সৌদি আবর, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১০টি দেশে হামলা চালিয়েছে ইরান।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রে যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ১৭৬ জন শিশুসহ ৮০০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে ইরানের ‘ট্রু প্রমিজ ৪’প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সামরিক কর্মী নিহত বা আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন। ১২ দিনের সংঘাত শেষে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।