logo

ইরানের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা ও রেল কোম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

এএফপি
এএফপি
ইরানের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা ও রেল কোম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা
ইরানের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ রেল, উৎপাদন ও ধাতব শিল্পের একাধিক কোম্পানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: এসবিএস নিউজ

ইরানের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ রেল, উৎপাদন ও ধাতব শিল্পের একাধিক কোম্পানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের অর্থনীতির ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার এসব নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, রেল ও গাড়ি খাত ইরান সরকারের আয়ের অন্যতম বড় অবশিষ্ট উৎস এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত। তাই নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতি সচল রাখা ও নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে ইরানের দুই বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা—ইরান খোদরো (IKCO) ও সাইপা (SAIPA)। প্রতিষ্ঠান দুটি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে গাড়ি সরবরাহের পাশাপাশি আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও করে।

সব মিলিয়ে নতুন পদক্ষেপে ইরানের সাতটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ হিসেবে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এই অভিযানের লক্ষ্য ইরান সরকারের রাজস্বের উৎসগুলো সীমিত করা।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে ইরানের বৃহত্তম মোটরসাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিরু মোটরও।

এ ছাড়া ইরানের গাড়ি শিল্পের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার গোল্ডেন মোটরসাইকেল কোম্পানি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও হংকংয়ে অবস্থিত কয়েকটি গাড়ির যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

রেল খাতেও নিষেধাজ্ঞা

নতুন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রেল কোম্পানিকেও লক্ষ্য করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান রেলওয়ে কোম্পানি (RAI), রাজা প্যাসেঞ্জার ট্রেনস কোম্পানি এবং বেসরকারি মালবাহী পরিবহন প্রতিষ্ঠান শেরকাত-ই রাহ আহান-ই হামলে-ও-নাঘল।

একই সঙ্গে ইরানের বড় ইস্পাত ও অন্যান্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে হেভি ইকুইপমেন্ট প্রোডাকশন কোম্পানি (HEPCO)। মার্কিন ট্রেজারি প্রতিষ্ঠানটিকে মধ্যপ্রাচ্যের খনি ও সড়ক নির্মাণ যন্ত্রপাতির অন্যতম বৃহৎ নির্মাতা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

হেভি ইকুইপমেন্ট প্রোডাকশন কোম্পানির সাংহাইভিত্তিক একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

ইস্পাত ও তেল রপ্তানি নেটওয়ার্ক লক্ষ্য

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইস্পাত কোম্পানিগুলোকে সহায়তার অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জার্মানির কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে।

এ ছাড়া হংকংভিত্তিক দুই ইরানি-ডোমিনিকান নাগরিক পরিচালিত একটি জটিল ইস্পাত ও তেল রপ্তানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের গাড়ি, রেল, শিল্প ও ধাতব খাতের গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব ও সরবরাহ নেটওয়ার্কে চাপ সৃষ্টি করা হবে।