logo

খামেনির নিহত হওয়ার দাবি নাকচ করল ইরান

খামেনির নিহত হওয়ার দাবি নাকচ করল ইরান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহত হওয়ার দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করেছে ইরান। ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জীবিত আছেন; তার মৃত্যুর খবরকে তারা আখ্যা দিচ্ছে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ হিসেবে।

তেহরানে অবস্থানরত সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তার জানা মতে সর্বোচ্চ নেতা, প্রেসিডেন্ট, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব এবং পার্লামেন্টের স্পিকার—সবাই জীবিত আছেন। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের জনসংযোগ প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মৃত্যুর খবরকে ‘শত্রুপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক অপারেশন’ বলে আখ্যা দেন।

রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থাগুলোও একই সুরে জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি “অটল আছেন এবং পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন”। অন্তত দুইজন সংসদ সদস্যও প্রকাশ্যে এসব দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সব মিলিয়ে তেহরানের সরকারি অবস্থান খামেনির মৃত্যুর খবর সম্পূর্ণ অসত্য।

তবে পরিস্থিতি ঘিরে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। গতকাল তেহরানের পাস্তুর এলাকায় যেখানে সর্বোচ্চ নেতার দপ্তর, প্রেসিডেন্ট কার্যালয়, কিছু সামরিক সদরদপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অবস্থিত-বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ফলে গুঞ্জন আরও জোরদার হয়।

এ মুহূর্তে ইরান থেকে খামেনির মৃত্যুর পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এমন ঘটনা সত্য হতো, তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের মোড় ঘোরানো পরিস্থিতি তৈরি করত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ‘রেড লাইন’ অতিক্রমের ইঙ্গিত দিত। সে ক্ষেত্রে তেহরান বা ওয়াশিংটন উভয় পক্ষ থেকেই দ্রুত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রত্যাশিত ছিল।

বর্তমানে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট: খামেনি জীবিত, আর মৃত্যুর দাবি তথ্যযুদ্ধের অংশ। পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল ও সংবেদনশীল এ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক নজর রাখছেন। 

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা