logo

হরমুজ প্রণালিতে ইরানি প্রতিরক্ষা ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

হরমুজ প্রণালিতে ইরানি প্রতিরক্ষা ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মার্কেন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি বলেন, যতদিন এই ঘাঁটি ধ্বংস হচ্ছে না ততদিন হামলা অব্যাহত থাকবে।

রোববার (২২ মার্চ) এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাদধ্যম আলজাজিরা।  

বেসেন্ট বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলো দুর্বল করতে সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে একটি অভিযান শুরু হয়েছে। এসব স্থাপনা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।

যুদ্ধের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের খবর প্রকাশের ধরনের সমালোচনা করেন বেসেন্ট বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা আসলে কী করছেন, সে বিষয়ে মার্কিনিদের কাছে ‘সঠিক চিত্র’ তুলে ধরা হচ্ছে না।

এর আগে একই অনুষ্ঠানে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি দাবি করেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ‘যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে’ এবং তারা ‘বাস্তবতা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে’। মারফির এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে বেসেন্ট বলেন, সিনেটরের এই দাবি ভুল। আমরা ইরানের সক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছি।

এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আবারও কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, এই জলপথটি এখন ‘বন্ধ নয়’।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে আরাঘছি বলেন, ইরানের কারণে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে না; বরং আপনাদের শুরু করা যুদ্ধের আতঙ্কে বীমা কোম্পানিগুলো সরে দাঁড়াচ্ছে। আর কোনো হুমকিতে কোনো বীমাকারী কিংবা কোনো ইরানি বিচলিত হবেন না।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং ক্রমবর্ধমান বিপদের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী। সেই বিবৃতির পরই আরাঘছি তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন। 

জাতিসংঘের সমুদ্র বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনকে (আইএমও) ইরানের প্রতিনিধি আলী মুসাভি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি সব দেশের জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত কিন্তু ইরানের ‘শত্রুদের’ জন্য নয়।

মুসাভি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ তেল পথটি কার্যত বন্ধ থাকার ‌মূল কারণ হলো মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আলজাজিরা