Advertisement

আসামে ভয়াবহ বন্যায় এক দিনে ২১ জনের মৃত্যু

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
আসামে ভয়াবহ বন্যায় এক দিনে ২১ জনের মৃত্যু
আসামে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় সড়ক দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি, এতে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। ছবি: সংগৃহীত

টানা বর্ষণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যটিতে নতুন করে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এই সংখ্যা ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। একই সঙ্গে রাজ্যের ১৬ জেলায় ৫ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে শিবসাগর জেলায়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) গভীর রাতে প্রকাশিত এক বুলেটিনে এসব তথ্য জানিয়েছে আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ)।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে শিবসাগর জেলায়। এ ছাড়া চরাইদেও জেলায় পাঁচজন, গোলাঘাটে দুজন এবং জোরহাটে একজন মারা গেছেন। ফলে রাজ্যে চলতি বছরের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। ১৬ জেলায় ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৬০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাজ্যের ৪৪টি রাজস্ব সার্কেলের অধীনস্থ মোট ৮৭২টি গ্রাম বর্তমানে প্লাবিত অবস্থায় রয়েছে। বন্যাকবলিত প্রধান জেলাগুলোর মধ্যে শিবসাগর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে মোট ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩৫ জন মানুষ পানিবন্দি। এ ছাড়া জোরহাটে ৮৭ হাজার ৬৬২ জন এবং চরাইদেওয়ে ৭২ হাজার ৬৪৬ জন বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বাস্তুচ্যুত ও আশ্রয়হীন মানুষের জন্য জোরদার করা হয়েছে ত্রাণ তৎপরতা। রাজ্য প্রশাসন বর্তমানে ১২ হাজার ২৮৪ জন বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়ের জন্য ৭১টি ত্রাণ শিবির ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছাতে ২০২টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র সক্রিয় রেখেছে। সেনা, এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ টিম উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে।

এদিকে নদীর পানি বিপজ্জনক গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শিবসাগর জেলার শিবসাগর শহর ও নাংলামুরাঘাটের প্রধান নদী দিখৌ ও দিসাংতে পানি সর্বোচ্চ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে নেমাটিঘাটে ব্রক্ষ্মপুত্র, খোয়াং এলাকায় বুড়িডিহিং ও গোলাঘাট ও নুমালিগড়ে ধানসিঁড়ি (দক্ষিণ) নদী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দু-এক দিন ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির ফলে রাজ্যের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। প্লাবনের পানিতে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের (এনএফআর) প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা (সিপিআরও) কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, শিবসাগর জেলার সিমালুগুড়ি শহর ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রবল বন্যার কারণে রেলপথ জলের নিচে চলে গেছে। সুরক্ষার স্বার্থে সিমালুগুড়ি-নামতিয়ালি এবং সিমালুগুড়ি-সেলেনঘাট সেকশনে সব ধরনের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান পর্যালোচনা করতে তিনি বুধবার থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো পরিদর্শন করবেন। তিনি বলেন, উজানে মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট সাম্প্রতিক বন্যা আমাদের জনগণের জন্য চরম দুর্ভোগ বয়ে এনেছে। ত্রাণ কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে আগামীকাল আমি চরাইদেও, নাজিরা, শিবসাগর, সোনারি, জোরহাট এবং টিওকের বন্যা কবলিত এলাকা ও ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করব।

সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি