logo

ইরানের নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্রে আবারও যৌথ হামলা 

ইরানের নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্রে আবারও যৌথ হামলা 

ইরানের পারামাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নাতানজে আবারও যৌথ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। 

শনিবার (২১ মার্চ) ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। 

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য ইরানে অবস্থিত নাতানজ পরমাণু কেন্দ্রে আজ হামলা হয়েছে। তবে এতে কোনো তেজস্ক্রিয় উপাদান ছড়িয়ে পড়েনি বলে জানিয়েছে তাসনিম।

তেহরান ও ইসফাহানের মাঝামাঝি অবস্থিত এই কেন্দ্রের আশপাশের বাসিন্দারাও কোনো ঝুঁকিতে নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছিল, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা হামলার পর নাতানজ পরমাণু কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে যৌথ হামলা চালিয়েছিল। ওই বছরের ২২ জুন মার্কিন সামরিক বাহিনী বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা— নাতানজ, ইসফাহান ও ফোরদোতে হামলা চালায়।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো দেশটির অনেক জায়গায় ছড়িয়ে আছে। ইসরায়েল বহু বছর ধরে এসব স্থাপনায় হামলার হুমকি দিলেও, নিরাপত্তার জন্য কেবল কিছু স্থাপনাই মাটির নিচে তৈরি করা হয়েছে।

আইএইএ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ইরান ২০০৩ সাল পর্যন্ত একটি গোপন ও সমন্বিত পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি চালু রেখেছিল, যা পরে বন্ধ করা হয়। তবে ইরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।

২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত রাখার চুক্তি করে। কিন্তু ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই ইরান সেই শর্ত লঙ্ঘন করতে শুরু করে।

২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি ভাঙার পর থেকে ইরান দ্রুত তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করেছে। এর ফলে ‘ব্রেকআউট টাইম’ অর্থাৎ ওয়েপেন-গ্রেড ইউরেনিয়াম তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সময় এক বছরের বদলে এখন কয়েক দিন কিংবা এক সপ্তাহের মতো কমে এসেছে।

তবে শুধু ইউরেনিয়াম থাকার মাধ্যমে পারমাণবিক বোমা তৈরি সম্ভব নয়; এর জন্য আরও জটিল প্রযুক্তি ও প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। এই প্রস্তুতির জন্য সময় কত লাগবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

আইএইএ জানায়, ইরান বর্তমানে দুইটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা ওয়েপেন-গ্রেড (৯০ শতাংশ) এর কাছাকাছি। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, এই মাত্রার ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করলে ইরানের কাছে ছয়টি পারমাণবিক বোমা তৈরির মতো উপাদান থাকতে পারে।