সাইপ্রাসে রণতরি ও হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ সাইপ্রাসে ব্রিটিশ সেনা ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলার পর সেখানে রণতরি ও হেলিকপ্টার পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ এক পোস্টে এ কথা জানিয়েছেন।
গত সোমবার সাইপ্রাসে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের আক্রোটিরি ঘাঁটির রানওয়েতে ইরানি ড্রোন আঘাত হানে। এতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সাইপ্রাসে রণতরি ‘এইচএমএস ড্রাগন’ পাঠানোর উদ্যোগ নেন। একইসঙ্গে কাউন্টার ড্রোন সক্ষমতা সম্পন্ন হেলিকপ্টার পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয় সময় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে হঠাৎ ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বহু শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে এই হামলা চালানো হয়।
হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
জবাবে ইসরায়েলে ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। খামেনিকে হত্যার পর রোববার থেকে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে তেহরান।
চলমান এই সংঘাত বন্ধে এখনও সমাধানের পথ খোলেনি। উল্টো হামলার তীব্রতা দিনদিন বাড়ছে। পাল্টাপাল্টি হুমকি-ধমকি চলছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।
১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।