পশ্চিমবঙ্গে শেষ দফার ভোট আজ, নির্ধারণ হবে মমতার ভাগ্য

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় বা শেষ দফা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আজ বুধবার। দক্ষিণবঙ্গের মোট ৭ জেলার ১৪২টি আসনে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ এক হাজার ৪৪৮ জনের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) হয়ে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসতে চাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভবানীপুর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রাজ্যে শেষ দফায় দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলার ১৪২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। এগুলো হলো নদিয়া (১৭), উত্তর ২৪ পরগনা (৩৩), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৩১), কলকাতা (১১), হাওড়া (১৬), হুগলি (১৮), পূর্ব বর্ধমান (১৬)।
১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণে রাজ্যে ৯২ দশমিক ৭২ শতাংশ ভোট পড়েছে। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট দেশটি স্বাধীনতা লাভের পর রাজ্যে সর্বোচ্চ। অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সঙ্গে আগামী ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণে পুরুষ প্রার্থী হলেন এক হাজার ২২৮ জন ও ২২০ জন নারী প্রার্থী। আর হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী, ফিরহাদ হাকিম। এই ভোটাভুটিতে এক কোটি ৬৪ লাখ পুরুষ, এক কোটি ৫৭ লাখ নারী ও ৭৯২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারসহ মোট তিন কোটি ২২ লাখেরও বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসন থেকে তিনি গত নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। ২০২১ সালে মমতা ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম উভয় আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যান।
২০২১ সালের নির্বাচনে বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনের মধ্যে ১২৩ আসনে জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি জয় পেয়েছিল ১৮ আসনে। আর মাত্র একটি আসনে জয় পেয়েছিল আইএসএফ।
পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনে বিজেপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা দেখা গেছে, যেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা র্যালি ও জনসভাতে অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে একটি পদযাত্রা করেন এবং জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এদিকে প্রথম দফার মতোই দ্বিতীয় দফাতেও অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে মরিয়া নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে একাধিক পদক্ষেপও। অন্যদিকে অশান্তি এড়াতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তও। প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ রয়েছে সীমান্ত বাণিজ্য। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত পর্যন্ত সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই পেট্রাপোল বন্দরে বন্ধ রয়েছে দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, সংবাদ প্রতিদিন