তীব্র গরমে পুড়ছে ফ্রান্স, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ফ্রান্স
তীব্র গরমে পুড়ছে ফ্রান্স, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু
তীব্র গরমে স্বস্তির খোঁজে ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ার সংলগ্ন লেকের পানিতে তরুণ-তরুণীরা। ছভি: সংগৃহীত

তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ফ্রান্স। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ মেতেও-ফ্রান্স জানিয়েছে, চলমান তাপদাহের মধ্যে ফ্রান্স ইতিহাসে সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রার দিন রেকর্ড করেছে। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমে খবরে জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। এ হিসাব ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

Advertisement

তীব্র গরম থেকে স্বস্তি পেতে নদী, হ্রদ ও অনিরাপদ জলাশয়ে নামছেন হাজার হাজার মানুষ। তবে সেই স্বস্তি নিতে গিয়ে অনেকের জীবনে নেমে এসেছে মর্মান্তিক দূর্ঘটনা। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু জানিয়েছেন, গত ১৮ জুন থেকে অন্তত ৪০ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন, যার অধিকাংশ তরুণ-তরুণী।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই তাপপ্রবাহে শুধু পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়নি, হিটস্ট্রোক ও অসুস্থ হয়ে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। খোজ নিয়ে জানা যায়, হাস্পাতাল গুলোতে সাভাবিক সময়ের থেকে কয়েকগুন রুগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সব হাস্পাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

ফ্রান্সের ৫০টিরও বেশি প্রশাসনিক অঞ্চলে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ জনগণ কোনো না কোনো ধরনের তাপ সতর্কতার আওতায় রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে, কিছু ট্রেন চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, এবারের তাপপ্রবাহের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো রাতের তাপমাত্রাও অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকা। অনেক এলাকায় রাতের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকছে, ফলে মানুষের রাতেও স্বস্তি পাচ্ছে না ফলে ঘুমাতে পারছে না।

ফ্রান্সের পাশাপাশি স্পেন, ইতালি, জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশও একই তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে।

এই তীব্র গরমের ফলে ফ্যানের দোকান গুলতে ভির লক্ষ্য করা গেছে। একজন বাংলাদেশী ফ্যান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন দিনে সব মিলিয়ে ১৫০০ ফ্যান বিক্রি করেন। তিনি আরও বলেন, হোল সেলস মার্কেটে ফ্যান পাওয়া যাচ্ছে না।

আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা অতি গরম বায়ুপ্রবাহ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মিলে এ ধরনের চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি করছে। জাতিসংঘও সতর্ক করে বলেছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউরোপে এমন তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হতে পারে।