২০০৮ সালের পর জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ধূমপান নিষিদ্ধ

ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম গড়তে এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। ২০০৮ সালের পর জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের তামাক পণ্য কেনা বা ধূমপান নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে দেশটি। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে উত্থাপিত বিলটি পাস হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বিলটি আইনে পরিণত হবে। তবে এ জন্য প্রয়োজন হবে ব্রিটেনের রাজার অনুমোদন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে ২০০৮ সালের পর জন্মগ্রহণকারী যে কোনো ব্যক্তির তামাক কেনা নিষিদ্ধ করার একটি বিল সংসদে তার অগ্রগতি সম্পন্ন করেছে। এর মাধ্যমে একটি ‘ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম’ তৈরি হবে বলে মন্ত্রীরা আশা করছেন। তামাক ও ভ্যাপ বিলের অধীনে, জীবন বাঁচাতে ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্মগ্রহণকারী কোনো ব্যক্তির কাছে যুক্তরাজ্যজুড়ে আইনত তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ।
আগামী সপ্তাহে রাজকীয় অনুমোদন পেলে বিলটি আইনে পরিণত হবে। ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর বিলটি উত্থাপনের মাধ্যমে সংসদের উভয় কক্ষে এর দীর্ঘ যাত্রা শুরু হয়েছিল। হাউস অব কমন্সের এমপিদের করা সংশোধনীগুলো হাউস অব লর্ডস অনুমোদনের মাধ্যম মঙ্গলবার তা শেষ হয়।
পার্লামেন্টে সদস্যরা আশা করছেন, এর মাধ্যমে কালক্রমে তামাকজাত পণ্যের বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে এবং আসক্তির চক্র ও তামাকের সঙ্গে জড়িত অসুবিধাগুলো ভেঙে যাবে।
শুধুমাত্র ইংল্যান্ডেই ধূমপানের কারণে প্রতি বছর ৪ লাখ মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ৬৪ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। এছাড়া ক্যান্সার ও হৃদরোগের মতো তামাকজনিত অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য এনএইচএসের ৩ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ হয়। অনুমান করা হয়, ইংল্যান্ডে এর ফলে প্রতি বছর মোট খরচ ২১.৩ বিলিয়ন থেকে ২৭.৬ বিলিয়ন পাউন্ড। এর প্রধান কারণ হলো উৎপাদনশীলতা হ্রাস।
গত অর্ধশতাব্দী ধরে ধূমপান যুক্তরাজ্যজুড়ে লাখ লাখ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে। এর ক্ষতিকর প্রভাবের অবসান ঘটানো ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এক চিরস্থায়ী উপহার এবং এখন সর্বত্র পরিবারগুলো নিশ্চিন্ত থাকতে পারে যে, তাদের সন্তানরা তামাকের ক্ষতি থেকে মুক্ত হয়ে বেড়ে উঠবে।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, তামাক ও ভ্যাপস বিলটি সংসদে তার যাত্রা শেষ করায় এটি দেশের স্বাস্থ্যের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। যুক্তরাজ্যের শিশুরা হবে প্রথম ধূমপানমুক্ত প্রজন্মের অংশ, যারা আজীবনের আসক্তি ও ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকবে। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। এই সংস্কার জীবন বাঁচাবে, এনএইচএসের ওপর চাপ কমাবে এবং একটি স্বাস্থ্যকর ব্রিটেন গড়ে তুলবে।