মোজতবা খামেনির ছায়ায় ঐক্যবদ্ধ ইরানের নেতৃত্ব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা আর দেশের ভেতরে হাজারো মানুষের মৃত্যুর শোক—সব মিলিয়ে ইরান এখন এক অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকি সত্ত্বেও তেহরান তাদের নতুন নেতা মোজতবা খামেনির ছায়ায় পাহাড়ের মতো দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, তিনি মোজতবা খামেনির নির্বাচনে সন্তুষ্ট হবেন না এবং তাকে একজন ‘অদক্ষ’ নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ইরানে এই নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ওয়াশিংটনের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
সোমবার (৯ মার্চ) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানিদের জন্য এটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ‘ইরান তার নিজের ভাগ্য নিজেই নির্ধারণ করে এবং কোনো বিদেশি শক্তি, সে যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না’ এই বার্তাই দিচ্ছে।
ইরানের প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংস্থা এই নিয়োগের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্টের স্পিকার, ইরান ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি), সশস্ত্র বাহিনী, বাসিজ আধাসামরিক বাহিনী, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল, জাতীয় পুলিশ এবং প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়।
এটি ইরানের পক্ষ থেকে ঐক্যের আরেক বার্তা। বিশেষ করে সেই শক্তিগুলোর প্রতি, যারা দেশটিতে হামলা চালাচ্ছে। যুদ্ধের প্রথম দিনে হওয়া হত্যাকাণ্ডের পর ইরান তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে পড়বে—হামলাকারীদের এমন আশা যে পূরণ হবে না, এটি তারই প্রমাণ। দেশ এখন ঐক্যবদ্ধ এবং নেতৃত্বের উত্তরাধিকার নিশ্চিত হয়েছে।
ইরানের সাধারণ মানুষ এখন তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে দেখার অপেক্ষায় রয়েছে। মোজতবা খামেনি এতদিন জনসম্মুখে আসেননি এবং তার সমর্থকরা তার মুখ দেখতে, তার কণ্ঠস্বর শুনতে এবং জাতির উদ্দেশে তার ভাষণ শোনার অপেক্ষায় আছেন। এখন পর্যন্ত তেমন কিছু ঘটেনি, যা কারও কারও কাছে অদ্ভুত মনে হচ্ছে।