ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি উগান্ডার সেনাপ্রধানের

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের হাওয়া এবার পৌঁছে গেছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডায়। ‘ইসরায়েলের পক্ষে’ ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহুজি কাইনেরুগাবা। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির ছেলে মুহুজি কাইনেরুগাবা লিখেছেন, ‘আমরা চাই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এখনই শেষ হোক। বিশ্ব এই সংঘাতে ক্লান্ত। ইসরায়েলকে ধ্বংস বা পরাজিত করার যে কোনো আলোচনা উগান্ডাকে এই যুদ্ধে টেনে আনবে। আমরা ইসরায়েলের পক্ষেই থাকব।’
ইরানের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা এবং তার ফলস্বরূপ পাল্টা আক্রমণের জেরে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
এর আগে ডিলিট করা আরেক পোস্টে তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ ‘শিগগিরই’ শেষ না হলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী উগান্ডা পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (ইউপিডিএফ) ‘ইসরায়েলের পক্ষে’ যুদ্ধে যোগ দেবে।
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার আছে এবং তাদের ওপর হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’ এদিন কাইনেরুগাবা আরেক পোস্টে জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে উগান্ডার প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছেন।
উগান্ডার সেনাপ্রধান দাবি করেন, ‘আমরা কোনো বোমা হামলা ছাড়াই ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তেহরান দখল করতে পারতাম। কিন্তু তারা তো একজন কৃষ্ণাঙ্গের কথা শোনে না। যারা তোমাদের সমর্থন করে, তাদের ওপর বোমা হামলা কেন করবে?’
গত মাসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাই ইয়োনাটান ‘ইয়োনি’ নেতানিয়াহুর সম্মানে এবেন্টে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভাস্কর্য স্থাপনের ঘোষণা করেন কাইনেরুগাবা। ইয়োনাটান নেতানিয়াহু ১৯৭৬ সালে উগান্ডার এন্টেবে জিম্মি উদ্ধার অভিযানের সময় ইসরায়েলি কমান্ডোদের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে নিহত হয়েছিলেন।
১৯৭৬ সালে এয়ার ফ্রান্সের একটি বিমান ছিনতাই করে প্রায় ১০০ ইহুদি ও ইসরায়েলিকে অপহরণ করা হয়েছিল। সে ঘটনায় ইয়োনি নেতানিয়াহু যেখানে নিহত হয়েছিলেন, ঠিক সেই স্থানেই ভাস্কর্যটি স্থাপন করার ঘোষণা দেন উগান্ডার সেনাপ্রধান। কাইনেরুগাবা বলেন, এই স্মৃতিস্তম্ভটি দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের প্রতীক।
যদিও ভাস্কর্যটি তৈরির বিষয়ে সরকার থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
২০১৬ সালে এন্টেবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘অপারেশন ইয়োনাটান’-এর ৪০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণ অনুষ্ঠানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অংশ নেন। জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘৪০ বছর আগে তারা গভীর রাতে এমন এক দেশে অবতরণ করেছিলেন, যার নেতৃত্ব দিতেন এক নৃশংস স্বৈরশাসক। তিনি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিতেন। আজ আমরা দিনের আলোতে এমন এক বন্ধুত্বপূর্ণ দেশে অবতরণ করেছি, যার নেতৃত্ব দেন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন প্রেসিডেন্ট।’
সূত্র: আনাদোলু, জেরুজালেম পোস্ট