যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ মোকাবিলায় কী করবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ সত্ত্বেও ইরানের অর্থনীতি সচল থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই দাবি করেন। এর আগে মিলার দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনৈতিক প্রাণশক্তি নিংড়ে নিচ্ছে।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইজাদি বলেন, মিলার সম্ভবত ভুলে গেছেন যে ইরানের প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার (৩৭০০ মাইল) স্থল সীমান্ত রয়েছে। অর্থাৎ, এ সীমান্ত অঞ্চলেও অর্থনৈতিক কার্যক্রম (আমদানি-রপ্তানি) সম্ভব। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ সত্ত্বেও ইরানের অর্থনীতি সচল থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ইরান তার বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী—বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বদিকের দেশগুলোর সহায়তা পাচ্ছে। এ কারণে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) ইরানকে দমন করতে পারবে না।
এ ছাড়া নৌ অবরোধ আরোপের সমালোচনা করে ইজাদি বলেন, এটি মূলত আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতিগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপনি বেসামরিক জনগণকে শাস্তি দিতে পারেন না।
ফুয়াদ ইজাদির অভিযোগ, ইতোমধ্যে বহু ইরানি বেসামরিক নাগরিককে হত্যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এই অবৈধ কাজটি করে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া নৌ অবরোধকে একটি ‘আগ্রাসন’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই কারণে ইরানি বন্দরগুলোতে বর্তমান মার্কিন নৌ অবরোধটি অত্যন্ত বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে চালানো মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় এ পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এসব হামলায় এপ্রিল পর্যন্ত ২২১ শিশু নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ৯৪২টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল, ইরাক, জর্ডান এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত ছিল।