Advertisement

ইরানকে মোকাবিলায় গিয়ে ‘বড় বিপদে’ যুক্তরাষ্ট্র, তড়িঘড়ি করে যাচ্ছে রণতরি

এনডিটিভি
ইরানকে মোকাবিলায় গিয়ে ‘বড় বিপদে’ যুক্তরাষ্ট্র, তড়িঘড়ি করে যাচ্ছে রণতরি
ইরানকে মোকাবিলার চেয়েও ‘বড় বিপদে’ যুক্তরাষ্ট্র, তড়িঘড়ি করে যাচ্ছে রণতরি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে শায়েস্তা করতে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ করেও সুবিধা করতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা ছয় মাসের যুদ্ধে বহু সেনাসদস্য, গোলাবারুদ, যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ঘাঁটি হারিয়েছে। ইরানি রণকৌশলে নাস্তানাবুদ যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলেও পারছে না। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে নতুন করে ‘বড় বিপদে’ পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

Advertisement

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সুবিধার্থে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকা বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন-কে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে নৌসেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট ও রসদ সরবরাহের ঘাটতির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আমেরিকান সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে লিংকনের স্থলাভিষিক্ত করা হবে ওয়াশিংটনকে।

মার্কিন নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন গত সপ্তাহে ভিয়েতনামের দা নাং বন্দর ত্যাগ করেছে। এরপর একটি ক্রুজার ও একটি ডেস্ট্রয়ার বহরসহ এটিকে সিঙ্গাপুর প্রণালি অতিক্রম করতে দেখা গেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এপি-কে নিশ্চিত করেছেন, রণতরিটি মালাক্কা প্রণালিতে অবস্থান করছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এটিকে ভারত মহাসাগরের দিকে চলাচলের পথ পরিবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছে।

অন্যদিকে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর স্যান ডিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগেই জানুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছায়। সাধারণত মার্কিন নৌবাহিনীর মোতায়েনকাল ছয় থেকে নয় মাস হয়। কিন্তু এই রণতরিটি ২৬০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছে।

দীর্ঘ এই মোতায়েনের ফলে জাহাজটিতে চরম মানসিক স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সেনাসদস্যদের মনোবল ভেঙে পড়া ও জাহাজ থেকে একাধিক নাবিকের সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার খবর সামরিক বিষয়ক সংবাদমাধ্যম নেভি টাইমস ও স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস-এ উঠে এলে মার্কিন আইনপ্রণেতা ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

যুদ্ধের কারণে ঐতিহ্যবাহী সরবরাহ কেন্দ্রগুলো ব্যাহত হওয়ায় জাহাজে চিঠি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। নৌবাহিনী জানিয়েছে, সংকট চলাকালীন খাবারের পর চিঠিপত্রের চেয়ে স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

রণতরিটির সার্বিক পরিস্থিতি ও সেনাসদস্যদের অবহেলার বিষয়ে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতারা পেন্টাগনের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করেছেন।

সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল ও সাবেক মেরিন সদস্য সিনেটর রুবেন গ্যালেগো একে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে অভিহিত করে আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনের হুমকি দিয়েছেন।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এসব অভিযোগ খারিজ করে দাবি করেন যে, পরিস্থিতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, উত্তাল সমুদ্রে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নাবিকেরা তাদের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ বজায় রাখবে।