ইরানের হামলায় গুঁড়িয়ে গেছে ইসরায়েলের সাত হাজার ভবন

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বড় আকারের হামলার পর ইরানি সেনারাও পাল্টা হামলা করছে। এর ফলে উভয়পক্ষের সামরিক-বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, মারা যাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। এ যুদ্ধে ইরানের হামলায় গুঁড়িয়ে গেছে ইসরায়েলের সাত হাজার ভবন। এছাড়া এক হাজার ৭৭০টি যানবাহন নষ্ট ও এক হাজার ১৩০টি অন্যান্য বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) এ সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের কারণে ইসরায়েলের কর কর্তৃপক্ষ জনগণের কাছ থেকে ১০ হাজার ৩১৪টি ক্ষতিপূরণের দাবি পেয়েছে। এর মধ্যে তেল আবিবে পাঁচ হাজার ৩০০টি, আশকেলনে তিন হাজার ৯০০টি, জেরুজালেমে ২০০টি এবং আকর ও টাইবেরিয়াসে ৯৭০টি ক্ষতিপূরণের দাবি জমা পড়েছে।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগীদের দাবি অনুসারে, ইরানের হামলায় ইসরায়েলে সাত হাজার ভবন গুঁড়িয়ে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া এক হাজার ৭৭০টি যানবাহন নষ্ট ও এক হাজার ১৩০টি অন্যান্য বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ১৭৯ ইসরায়েলিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং ৮৫ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ জানিয়েছে, ইসরায়েলি-মার্কিন আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে ১৪ জন ইসরায়েলি মারা গেছেন।
তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ হতাহতের সংখ্যা ও বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির খবর প্রকাশের ওপর কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করেছে। এর ফলে জানা গেছে যে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বড় আকারের হামলার পর থেকে যুদ্ধ শুরু হয়। এ সংঘাতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এছাড়া ১৫০ জনেরও বেশি স্কুলছাত্রী এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাসহ এক হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যান।
এ সময় ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছে। দেশটি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা এবং সামরিক কর্মীদের লক্ষ্য করে আক্রমণ করেছে। এছাড়া ইসরায়েলি শহরগুলোতেও ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।