পাকিস্তানে পুলিশের ৮ সদস্যকে ধরে নিয়ে গেছে নিষিদ্ধ সংগঠন

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হাইওয়ে পুলিশের আট সদস্য অপহৃত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে আজাদ কাশ্মীর পুলিশ।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মুখপাত্র খাওয়ার আলী শওকত অভিযোগ করে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) এই অঞ্চলে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে। এরপর দায়িত্বে থাকা আটজন হাইওয়ে পুলিশ সদস্যকে ‘অপহরণ’ করেছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) পাকিস্তানি গণমাধ্যম দ্য ডনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএসি)। এ সময় আটজন হাইওয়ে পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয়। অপহৃত পুলিশ সদস্যদের ওপর নৃশংস নির্যাতন চালানো হয়েছে। পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
খাওয়ার আলী শওকত স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সহিংসতা ও অপকর্ম চালিয়ে রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার কোনো সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ক্ষতি করা হলে বা তাদের পরিবারের ওপর হুমকি অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের ওপর নজর রাখার আহ্বান জানিয়ে মুখপাত্র বলেন, তারা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে এবং তাদের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উসকানি দিচ্ছে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিষিদ্ধ সংগঠনটির উসকানি ও কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
পুলিশের মুখপাত্র বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করে জেএএসি কোনো শান্তিপূর্ণ সংগঠন নয়। বরং সংগঠনটি সহিংসতার মাধ্যমে রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র কখনো দুর্বল ছিল না এবং এখনো নয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাষ্ট্র সব সময় সংযম দেখিয়েছে। তবে অধিকার আদায়ের নামে সহিংস কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ নেই বলেও সতর্ক করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় জনগণকে জেএএসি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, অঞ্চলের মানুষ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনটির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
এদিকে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসনগুলোর বিষয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে কিছুদিন ধরেই অঞ্চলটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিক্ষোভের পরিবেশ বিরাজ করছে। এর মধ্যেই এই অপহরণের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জেএএসি ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত স্থানীয় বিধানসভার ১২টি আসন বিলুপ্ত করার দাবি করে আসছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে এই অঞ্চলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে আসছে নিষিদ্ধ এই সংগঠনটি।



