ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ল

পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের ক্রমবর্ধমান দামের সঙ্গে সমন্বয় করতে না পারায় অবশেষে বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারত। পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্র সরকার। লিটারপ্রতি প্রায় ৩ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। প্রায় চার বছরের মধ্যে জ্বালানি দামে প্রথম বড় বৃদ্ধি হলো।
শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ৬টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে সিএনজির (কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস) দামও।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় রাজধানী নয়াদিল্লির পাম্পগুলোতে পেট্রোল লিটারপ্রতি প্রায় ৯৭ দশমিক ৭৭ টাকা ও ডিজেল প্রায় ৯০ দশমিক ৬৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সিএনজি প্রতি কেজি ২ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই অবস্থা মুম্বাই ও চেন্নাইয়েও।
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় লিটারপ্রতি ৩ টাকা করে বেড়ে পেট্রোল ১০৮ দশমকি ৭৪ টাকা ও ডিজেল ৯৫ দশমিক ১৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কলকাতায় সিএনজির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৩ টাকা করে।
অপরিশোধিত তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্য ভারতের আমদানি ব্যয়কে হুমকির মুখে ফেলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাগরিকদের অন্যান্য পদক্ষেপের পাশাপাশি জ্বালানি খরচ কমানোর আহ্বান জানানোর অল্প সময়ের মধ্যেই এই বৃদ্ধিটি ঘটল। কিন্তু এই বৃদ্ধিই শেষ নাও হতে পারে। অর্থাৎ জ্বালানির আরও মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অপরিশোধিত তেলের সংকট আরও বাড়লে আগামী দিনগুলোতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়তে পারে। ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক রাহুল আলুওয়ালিয়া বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাস্তব পরিস্থিতি হলো তেলের সরবরাহ আরও ব্যয়বহুল এবং অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুসারে, কয়েক সপ্তাহ ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টার পর শুক্রবার প্রতি লিটার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। মোদি সরকার জ্বালানির দাম বাড়াতে সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল। কারণ এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে ধারাবাহিক প্রভাব পড়বে। জ্বালানির দাম বাড়লে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও সেই অনুপাতে বেড়ে যায়। এতে দেশ মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকিতে পড়ে।
প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে তেল কোম্পানিগুলো তাদের খরচ বাড়তে থাকা সত্ত্বেও পুরোনো দামে জ্বালানি বিক্রি করছিল। তারা লোকসানটা নিজেরাই বহন করছিল। ইরান যুদ্ধের আগে ভারতে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৯ ডলার ছিল। পরে তা বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৩ থেকে ১১৪ ডলারে পৌঁছায়। এটি ছিল বড় উল্লম্ফন। ভারত তার অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করে। তাই বিশ্বব্যাপী দাম বাড়লে ভারতের আমদানি খরচও সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায়।
